চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ১৪:৩০ পিএম
আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬ ১৭:২৩ পিএম
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের শিশু ‘ধর্ষণের’ ঘটনায় করা মামলায় রায় বুধবার (১৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে এ রায় ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের
বিচারক যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
আদালত জানান, মোট ৫ কার্যদিবসে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির
আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলো। ঘটনার ২৫ দিনের মধ্যে এই মামলার রায়
ঘোষণা হতে চলেছে।
এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বুধবার। তিন কার্যদিবসে ১৮ জন
সাক্ষীর জবানবন্দি শোনেন আদালত।
সোমবার আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে আসামি মনির হোসেন নিজেকে 'নির্দোষ'
দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।
২১ মে বিকেলে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ
ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার
চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধে। তারা বলেন, তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে
চায়।
দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায়
টিয়ার শেল ছোড়ে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে
বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ সময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
সেদিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের
ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের
করেন।
সেই মামলায় ২২ মে বিকেলে মনির হোসেনকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন
ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার হলে তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’
জবানবন্দি দেন বলে সে সময় পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়।
দুই সপ্তাহ তদন্তের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার
পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে আসামি মনির
হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ (সংশোধিত-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায়
ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা
হাফছা ঝুমা ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ
দেন। পরদিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
মামলার আসামি ৩২ বছর বয়সি মনিরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর
উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামে তিনি থাকতেন নগরীর বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে।
চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে
জানিয়েছেন, ‘আজ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আগামীকাল রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।বিচারক
সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে বুধবার এই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।’