কেডিএ মিলনায়তনে মঙ্গলবার বিদায়ী চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেনকে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মনাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দীর্ঘ প্রায় ৩৮ বছর পর খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) নেতৃত্বে এলো দৃশ্যমান পরিবর্তন। সামরিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার বাইরে গিয়ে এবার দায়িত্ব নিলেন রাজনৈতিক পটভূমি থেকে উঠে আসা একজন বেসামরিক চেয়ারম্যান। ফলে শুধু নেতৃত্ব বদল নয়, খুলনার উন্নয়ন দর্শন ও নগর পরিচালনায়ও নতুন বার্তার ইঙ্গিত দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেডিএ মিলনায়তনে মঙ্গলবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিদায়ী চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেনকে সংবর্ধনা জানানো হয় এবং নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিনসহ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, খুলনার উন্নয়নকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার সময় এসেছে। শুধু অবকাঠামো নয়, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা ও পর্যটনকে সামনে রেখে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নাগরিকবান্ধব ও পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, খুলনার সম্ভাবনাকে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ও আঞ্চলিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করে নতুন উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা হতে পারে।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম মনা জানান, কেডিএকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, স্বচ্ছ ও সেবাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তার অগ্রাধিকার। তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন।
তার বক্তব্যে রাজনৈতিক বার্তাও ছিল স্পষ্ট- উন্নয়ন হবে অংশগ্রহণমূলক, সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্ব পাবে জনস্বার্থ এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও গণমুখী করা হবে।
বিদায়ী চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর হোসেনের সময়কার উদ্যোগের প্রশংসা করে নতুন চেয়ারম্যান বলেন, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন বাস্তবতায় কেডিএকে আরও কার্যকর করা হবে।