কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। ছবি: সংগৃহীত
ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়ার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নির্ণয়ে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (১৪ জুন) বিকালে গঠিত এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. হেলালুর রহমান। কমিটিকে আজ (সোমবার) বেলা ১১টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহাজাহান বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় জিসানের শরীরে কোনো জটিল শারীরিক সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তার প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম শাহ বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে গত শনিবার সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান দাবি করেন, মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের চাপ এড়াতে জিসান মিয়া অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। নিখোঁজের একদিন পর শুক্রবার রাতে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের কথা জানায় তার পরিবার। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কারা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সম্পর্কের জেরে নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে জিসান তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেন এবং পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। জিসানের পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া অন্য তিন আসামি হলেনÑ সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসান।