রাসেল মাহমুদ, বরগুনা
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বরগুনার বিভিন্ন উপজেলায় ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার এবং একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই গৃহবধূ, এক বৃদ্ধা, গণপিটুনিতে নিহত এক ব্যক্তি, এক অটোরিকশাচালক এবং এক পুলিশ কনস্টেবল।
জেলার সদর, পাথরঘাটা, তালতলী ও বামনা উপজেলায় শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকালে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে মোসা. কনা (৩৪) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা সকালে তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
একই দিনে সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকায় সালেহা বেগম (৯৩) নামে এক বৃদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে প্রতিবেশীরা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
এর আগে শুক্রবার সদর উপজেলার একটি এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন কথিত মাদক ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হোসেন ওরফে কালু এবং তার সহযোগীরা। এর জেরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী হামলা চালালে গণপিটুনিতে নিহত হন কালু বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম হোসেন (কালু)।
এদিকে পাথরঘাটা পৌর শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে শনিবার ভোরে মিজানুর রহমান (৪৫) নামে এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে তা উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছে তালতলী থানায়। সেখানে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ফারুক গাজী (৫৫) বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন বলেও জানা গেছে। শনিবার রাতে ডিউটি শেষে ব্যারাকে অবস্থানকালে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়লে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে বামনা উপজেলায়ও একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, “উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর প্রতিটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে”।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই খোদা বলেন, “পারিবারিক অবক্ষয়, সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের কারণে আত্মহত্যা ও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এসব অপমৃত্যু ও অপরাধ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব”।