দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তালা মেরে বিক্ষোভ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে এনে ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করেছে রোগীর স্বজনরা। শনিবার (১৩ জুন) সকালে এ ঘটনায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সেবাসহ অন্যান্য সেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।
জানা যায়, রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়ার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী নুর নাহার বেগমকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শনিবার ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করানো হয়। এর ১৫ মিনিট পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ সময় নুর নাহার বেগমের পরিবারের সদস্যরা দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম হোসেনকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এদিকে ইন্টার্নদের বিরুদ্ধে মৃত নুর নাহার বেগমের লাশ আটকে রাখার অভিযোগ এনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে রোগীর স্বজনরা।
রোগীর স্বজনরা জানান, রোগীর জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অক্সিজেন মাস্ক না থাকায় ডাক্তারদের কাছে মজুদ থাকা মাস্ক চাওয়া হয়, কিন্তু তারা মাস্ক দেয়নি। এই মাস্ক কিনে আনতে গিয়ে অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা যায়।
মৃত নুর নাহার বেগমের দেবর মোহাব্বত আলী বলেন, আমার ভাতিজা ভোরে তার মাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। যখন রোগী মারা যায় তখন ছেলে নিজের ক্ষোভ ধরে রাখতে না পেরে চিকিৎসকের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। আমার ভাতিজা যেহেতু ধস্তাধস্তি করেছে সেহেতু তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতেই পারে প্রশাসন, কিন্তু লাশ আটকিয়ে রেখে চিকিৎসকরা যে মূর্খতার পরিচয় দিচ্ছে তার বিচারে কী হবে।
এদিকে অসুস্থ বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে আসা রাকিব হোসেন বলেন, এখানে এসে দেখি জরুরি বিভাগে তালা মারা। বারবার অনুরোধ করার পরও চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে দিচ্ছে না।
গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে আসা সোহাগ মিয়া বলেন, অনেক দূর থেকে কষ্ট করে হাসপাতালে এসেছি। আমার রোগী ব্যাথায় কাতরাচ্ছে কিন্তু ডাক্তাররা ভর্তি নিচ্ছেন না। এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থানও নেই রোগীর।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ বলেন, নুর নাহার বেগম নামে ওই রোগীকে হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয় ভোর ৪টা ৫ মিনিটে। ওই রোগী মারা যায় ৪টা ২০ মিনিটে। এই ১৫ মিনিট ওই রোগীকে সিপিআর ও অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে। আমরা চিকিৎসকরা নিজেদের জায়গা থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি।
জরুরি বিভাগ বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাইতে গিয়েছে তখন তাদের জানানো হয়েছে প্রশাসন অথর্ব, তোমাদের যা ইচ্ছা তাই করো। তখন শিক্ষার্থীরা জরুরি বিভাগ বন্ধ করে আন্দোলন করে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসককে মারধর করা হয়েছে এজন্য চিকিৎসকরা লাশ আটকিয়ে রেখেছিল। ফলে লাশ দিতে দেরি হয়েছে। চিকিৎসকদের ওপর হামলা ঘটনায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব, যাতে ভবিষ্যতে এ রকম ঘটনা আর না ঘটে।