সৌদি কারাগারে মৃত্যু
মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের কারাগারে মৃত্যুর ২৮ দিন পর কিশোরগঞ্জের মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকায় শনিবার শাকিলের নিজ বাড়িতে পৌঁছে মরদেহ। প্রবা ফটো
সৌদি আরবের কারাগারে মৃত্যুর ২৮ দিন পর অবশেষে দেশে ফিরেছে কিশোরগঞ্জের প্রবাসী যুবক শাকিল মিয়ার (২৮) মরদেহ। শনিবার (১৩ জুন) ভোরে কিশোরগঞ্জের মারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব কাতিয়ারচর এলাকায় শাকিলের নিজ বাড়িতে পৌঁছে মরদেহ। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অসহায়ত্ব শেষে এ সময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে শোকের মাতম নেমে আসে।
এর আগে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শরীফুল আলমের হস্তক্ষেপ এবং সরকারি সহযোগিতায় গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে শাকিলের মরদেহ।
মৃত শাকিলের চাচা বুকুল মেম্বার জানান, ২০১৯ সালে পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ঢাকার বনানী এলাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাড়ি জমায় শাকিল। সেখানে নিয়োগকর্তার সঙ্গে আকামা (কাজের অনুমতিপত্র) সংক্রান্ত জটিলতায় জড়িয়ে সে কর্মস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে অবৈধভাবে কাজ করার সময় সৌদি পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাগার থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শাকিল দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় ২ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান। পরে তার বাবা আত্মীয়স্বজনের সহযোগিতায় ওই অর্থ পাঠান।
শাকিলের ফুপু মোছা. চায়না বেগম বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন আগে শাকিল ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিল, ‘আমি খুব কষ্টে আছি। আমাকে দেশে নিয়ে যান।’ কিন্তু আমরা তাকে আর ফিরিয়ে আনতে পারলাম না।’
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মে কারাগারের একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র বিস্ফোরিত হয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে শাকিল শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শাকিলের বাবা ওমর ফারুক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে ছিল আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।’
এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শেষবারের মতো শাকিলের লাশ দেখতে আসা স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশীদের ভিড়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।