কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিমের সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধান। ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ‘নিখোঁজের’ ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, বিয়ে এড়াতে তিনি নিজেই নিখোঁজ নাটক সাজিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার জিসান মিয়া প্রধান শিবিরের সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে জিসানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রশিবির।
স্বজন ও পুলিশের ভাষ্য
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে দাউদকান্দি মডেল মসজিদে এশার নামাজের পর জিসান নিখোঁজ হন। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় তার ভাই থানায় জিডি করেন। শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে অপহরণ করা হয়েছে, তবে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও প্রতারণার অভিযোগ থেকে বাঁচতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপন করেছিলেন।
ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগে মামলার এজাহারে যা আছে
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে নিজের বাসায় এক তরুণীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন জিসান। পরে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে কৌশলে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয়।
ওই নারী বিয়ের দাবি জানালে জিসান নানা টালবাহানা শুরু করে আত্মগোপনে চলে যান। শুক্রবার জিসান উদ্ধারের পর ওই নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের নামে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা করেন।
ছাত্রশিবিরের বক্তব্য ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা
ঘটনাটি নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় জিসানকে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।
শিবিরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, গত রাত থেকে এখন পর্যন্ত জিসান বা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। ফলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তার নিজস্ব বক্তব্য এখনও জানা সম্ভব হয়নি।