নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
জেলা শহরের প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগারে ফলোৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল প্রায় ২২ প্রজাতির দেশীয় ফলের নান্দনিক প্রদর্শনী। প্রবা ফটো
নওগাঁয় চিরায়ত বাংলার ঐতিহ্য, মধু মাসের বৈচিত্র্যময় ফলসম্ভার এবং লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ‘ফলোৎসব ও গীত-মঞ্জরি’র আয়োজন করেছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন একুশে পরিষদ। এবারের ফলোৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল প্রায় ২২ প্রজাতির দেশীয় ফলের নান্দনিক প্রদর্শনী।
জেলা শহরের প্যারীমোহন সাধারণ গ্রন্থাগারে শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয় সংগঠনটির ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন। বিকাল ৫টার দিকে শুরু হওয়া এ আয়োজন ঘিরে সুধীজন, সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংগঠনের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে করে তোলে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
উৎসবে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস, পেয়ারা ও জামরুলের পাশাপাশি স্থান পেয়েছে লটকন, কামরাঙা, আতা, শরিফা, ডেউয়া, করমচা, কদবেল, বেল, সফেদা, আমড়া, বাতাবিলেবু, গাব, তাল ও বেতফলের মতো নানা দেশীয় ফল। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ অথচ ক্রমশ বিস্মৃতপ্রায় এসব ফলের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচিত করে তোলাই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
উৎসবে স্বাগত ও সূচনা বক্তব্য দেন একুশে পরিষদ নওগাঁর সভাপতি অ্যাডভোকেট ডিএম আব্দুল বারী। তিনি দেশীয় সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নিজস্ব শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই সাংস্কৃতিক চেতনার বিকাশ সম্ভব।
ফলোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব ‘গীত-মঞ্জরি’। এ পর্বে একুশে পরিষদের সদস্যরা দেশাত্মবোধক, লোকজ ও আধুনিক সংগীত পরিবেশন করেন। মাটির গান, দেশীয় ফলের সৌরভ এবং আন্তরিক অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপ নেয়।
এবারের ফলোৎসবের আরেকটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল ফলসমূহের শৈল্পিক উপস্থাপনা। ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের থালা, পাত্র ও বিভিন্ন সাজসজ্জার উপকরণ ব্যবহার করে ফলগুলোকে নান্দনিকভাবে প্রদর্শন করা হয়। পরিশেষে প্রদর্শিত দেশীয় ফল উপস্থিত অতিথি, সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।