নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার গাহলী বাজারে আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এলাকাবাসী। প্রবা ফটো
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্যাতন ও জমি দখলের অভিযোগের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জেরে হাসিনা বানু নামে এক নারীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও হাতুড় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মণ্ডলের নির্দেশে তার সমর্থকরা শুক্রবার (১২ জুন) মহিষবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটান।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হাসিনা বানু ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার গাহলী বাজারে আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে জমি দখল, মাছ লুট, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এলাকাবাসী।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, মহিষবাথান সরদারপাড়া গ্রামের বাবর আলীর স্ত্রী হাসিনা বানুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি তার কিছু জমি দখল করা হয়েছে। এ ছাড়া চক কৃষ্ণপুর গ্রামের হুমায়ূন আহমেদের পুকুর থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ লুট এবং কফিল উদ্দিনের জমি ভুয়া দানপত্রের মাধ্যমে দখল করে প্রায় ২০০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগও তোলা হয়।
একই সঙ্গে পরিতোষ মণ্ডলের কাছে বিরোধ নিষ্পত্তির নামে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হাসিনা বানু। তার স্বামী বাবর আলীর অভিযোগ, এর জেরে শুক্রবার সকালে জুয়েল, টিপু, রমজান, আঞ্জুমান, শাহনাজ, মনেক্কাসহ ১০-১২ জনের একটি দল বাড়িতে হানা দিয়ে হাসিনা বানুকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
পরে তাকে গ্রামের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করা হয়। বাধা দিতে গেলে বাবর আলীকেও মারধর করা হয়। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও দাবি পরিবারের।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। হাসিনা বানু বলেন, মানববন্ধনে সত্য ঘটনা তুলে ধরেছি। এর প্রতিশোধ নিতেই আমার ওপর হামলা ও নির্যাতন করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
মহাদেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম বলেন, হাসিনা বানুর শরীরে নির্যাতনের কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে মাদক কেনাবেচার অভিযোগের কোনো সত্যতা মেলেনি। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, প্রাথমিক তদন্তে নির্যাতনের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল মতিন মণ্ডল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। দলের একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র করছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।