প্রবা প্রতিবেদক, ঢাকা ও কক্সবাজার
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমাবেশস্থল চকরিয়া বাস টার্মিনাল মাঠ পরিদর্শনে শাহজাহান চৌধুরী এমপি ও জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ। প্রবা ফটো
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন। দিনব্যাপী সফরে তিনি জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, রাজনৈতিক জনসভা ও সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে- পিএমখালীর ঐতিহাসিক পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন। ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল দিয়ে এই খালের খননকাজ শুরু করেছিলেন। বাবার সেই স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা স্মরণে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধন শেষে সেখানে একটি জনসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করবেন এবং সংরক্ষিত বনে সরকারের আগামী ৫ বছরের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী দেশব্যাপী একযোগে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সফরের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী পেকুয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সঙ্গে তিনি নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার উদ্বোধন করবেন।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বিকালের প্রধানমন্ত্রী চকরিয়া উপজেলা বাস টার্মিনালে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় কক্সবাজারের সুধীজনদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সফরসূচির প্রতিটি কর্মসূচি সফল ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফরে ঘিরে জেলায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু পুলিশ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি), বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সফল করতে সবাই আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উন্নয়ন প্রত্যাশায় উৎসবমুখর কক্সবাজারের জনপদ: এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ। কক্সবাজারজুড়ে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জনসভাস্থল থেকে শুরু করে প্রতিটি উদ্বোধনস্থলে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এগিয়ে নিতে একগুচ্ছ প্রত্যাশা ও দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারবাসী।
পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. শামশুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর পিএমখালীবাসীর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর পিতার স্মৃতিবিজড়িত এলাকায় এসে পাতলী খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের মাধ্যমে তিনি সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বাস্তবায়নও করছেন। এই খাল পুনঃখনন হলে অন্তত দুই লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। স্থানীয়রা এই এলাকায় ‘জিয়া স্মৃতি পার্ক’ নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন।
অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে সেখানে পৌঁছেছেন সরকারের ৬ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তারা কক্সবাজার গেছেন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
কক্সবাজারে যাওয়া সরকারের ৬ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।