সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে টিন বিক্রির অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সংরক্ষিত সরকারি মালিকানাধীন পুরনো টিন বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সম্পদ যথাযথ নিলাম বা অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিক্রির চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন নেছা বেগমের বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যালয়ের অফিস ভবনের টিনের চাল পরিবর্তনের পর খুলে রাখা অর্ধশতাধিক পুরনো টিন সমাজসেবা কার্যালয়ের অভ্যন্তরে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, গত বুধবার অফিস চলাকালীন ওই টিনগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ ঘটনায় ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, কার্যালয়ের এক কর্মচারী সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন এবং টিনের বান্ডিল দড়ি দিয়ে বাঁধতে সহায়তা করছেন। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা লুৎফুন নেছা বেগম বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ভিডিওটি দেখেছি। টিনগুলো আগের জায়গায় রেখে দেওয়ার জন্য ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। সরকারি সম্পদ বিক্রয়ের জন্য নির্ধারিত বিধিমালা রয়েছে এবং সেই বিধিমালা অনুসরণ করেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত। বিধি-বহির্ভূতভাবে সরকারি সম্পদ বিক্রয় আইনসম্মত নয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, সরকারি সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি।