খুলনার লবণচরায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ রফিকুল গাজী (লাল শার্ট পরিহিত)। ছবি: সংগৃহীত
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার দমনে খুলনা মহানগরজুড়ে বিশেষ যৌথ অভিযান চলার মধ্যেই প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম গাজীকে।
নগরীর লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার দশগেট-কাজীপাড়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার দুপুরে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রফিকুল ইসলাম গাজী (৪৫) স্থানীয়ভাবে টাইগার রফিক ও ঢাকাইয়া রফিক নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি লবণচরা থানার দক্ষিণ মাথাভাঙা এলাকার রতন গাজীর ছেলে।
তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে তিনি ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলেও জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লবণচরা থানার মাথাভাঙা এলাকার কাজীপাড়া বাজারে অবস্থান করছিলেন রফিকুল ইসলাম গাজী।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট পরিহিত এক দুর্বৃত্ত রফিকুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ সময় গুলিটি রফিকুলের তলপেটে লাগে বলেও জানান তারা।
নিহতের স্ত্রী জানান, বড় ছেলে রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তাকে খুঁজতে বের হন তার স্বামী রফিকুল। ছেলেকে না পেয়ে বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা জায়গায় বসে ছিলেন তিনি।
সেখানেই দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে বলেও জানান তিনি।
পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওই হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহত রফিকুল ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।
বটিয়াঘাটার জলমা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব আসাবুর রহমান হাওলাদার বলেন, রফিকুল ইসলাম বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। তার ফেসবুক আইডিতেও একই পরিচয় দেওয়া আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যের সঙ্গে রফিকুল ইসলামের ছবি রয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, তার রাজনৈতিক পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ দুই বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) রেজাউর রহমান বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার পর লবণচরা থানার প্রত্যন্ত এলাকার একটি বাজারে রফিকুল ইসলাম বসে ছিলেন। একটি মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা এক দুর্বৃত্ত তার তলপেটে গুলি করে পালিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, নিহত রফিকুল ইসলাম বেশির ভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন এবং মাঝেমধ্যে এলাকায় আসতেন। তিনি পাথরের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
দুর্বৃত্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে বলেও জানান তিনি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার আব্দুর রাজ্জাকও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, মহানগরীতে চলমান বিশেষ যৌথ অভিযানের মধ্যেই এ ধরনের প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে খুলনা নগর এলাকায় ১৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এর পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থানের পর সংঘটিত ৩৪টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।