প্রধানমন্ত্রীর সফর/
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ভাড়ায় ইট এনে কাঁচা সড়কে বিছানোর ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি এলাকায় ভাড়ায় ইট এনে কাঁচা সড়কে বিছানো হয়।
এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনার মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বগুড়া প্রেসক্লাবে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে সাময়িকভাবে ওই সড়কে ইট বিছানো হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সড়কটি আগে থেকেই পাকাকরণের জন্য অনুমোদিত ছিল। বর্তমানে ইট সরিয়ে সেখানে স্থায়ী নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে, উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে কিছু বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কাঁচা সড়ক দিয়ে নিরাপদে চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতেই অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরের আগে গাবতলীর বাগবাড়ি এলাকায় ভাড়ায় ইট এনে সড়ক প্রস্তুতের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নও ওঠে। মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন।
বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, জেলার দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, যোগাযোগ, নগর ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো খাতে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, শহরের কোলাহলমুক্ত পরিবেশে একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কৃষি, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান অনুষদ থাকবে। এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে উপস্থাপন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একটি বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সেখানে পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কার্গো সুবিধা, যুদ্ধবিমান পরিচালনার অবকাঠামো এবং বিমানঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প আগামী সপ্তাহে একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বগুড়া শহরের রেললাইন স্থানান্তর পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, রাণীরহাট থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত মেট্রোরেলের আদলে ট্রেন চলাচলের পরিকল্পনা রয়েছে।
একই সঙ্গে গাবতলীতে চার লেনের বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং বগুড়া-নওগাঁ ও মোকামতলা-জয়পুরহাট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নগর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বগুড়া শহরের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ভাঙচুর করা হবে না। নগরবাসীর স্বার্থ বিবেচনায় রেখে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বগুড়া ওয়াসা গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের উন্নয়নের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় বগুড়া প্রেসক্লাবের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ১ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের গণমাধ্যম বর্তমানে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতাও জরুরি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে।
বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন।
সভায় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।