প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানায়, বহুতল ভবনের নিচতলার বেসমেন্টে থাকা জেনারেটর কক্ষ অথবা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আগুনের সূত্রপাত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বৃহস্পতিবার সাড়ে নয়টার দিকে হঠাৎ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে খুলনার ময়লাপোতা মোড়ের খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল।
প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস জানায়, বহুতল ভবনের নিচতলার বেসমেন্টে থাকা জেনারেটর কক্ষ অথবা বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এবং এ ঘটনায় মুহূর্তেই পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, আইসিইউ, সিসিইউসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা দেড় শতাধিক রোগী, স্বজন ও কর্মীরা দ্রুত নিরাপদে বের হওয়ার চেষ্টা করেন।
আগুনের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ঘন কালো ধোঁয়া, যা ১৬ তলা ভবনের ১৩ তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানায় ফায়ার সার্ভিস।
ঘটনাস্থলে চারটি ফায়ার স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে ১২টি ইউনিট, নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট, পুলিশ, বিজিবি, স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবী ও হাসপাতালের কর্মীরা উদ্ধার কাজে অংশ নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসিব জানান, কয়েকবার অ্যালার্ম বেজে ওঠে এবং ধোঁয়া দ্রুত উপরে উঠতে থাকে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করে। ১৩ ও ১৪ তলায় থাকা রোগীদেরও ধীরে ধীরে নিরাপদে নামানো হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স খুলনা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাসুদ সরদার জানান, বেসমেন্ট থেকে আগুন যাতে ওপরের দিকে ছড়িয়ে না পড়ে সেটিই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও বলেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর রোগীদের খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, সন্ধানী মেডিকেয়ারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রাত প্রায় দুইটা পর্যন্ত রোগী স্থানান্তর কার্যক্রম চলে।
এ ঘটনায় অন্তত বিশজন আহত ও অসুস্থ হয়েছেন, যাদের কাচ ভাঙা ও ধোঁয়ার কারণে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্য এক ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা জানান, বেসমেন্টের আগুন নিয়ন্ত্রণে রেখে ভবনের ওপরের তলায় ছড়িয়ে পড়া রোধ করাই ছিল প্রধান কাজ।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু বলেন, সব নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ ও পরিচালনা করা হয়েছে এবং নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতি ও কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পথচারীরা জানান, রাতের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক মানুষ হাসপাতালে ভিড় করেন এবং স্বজনদের খোঁজ নেন।
এমসকি সকালেও ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে , তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে, বলেন তারা।