খুলনা অফিস
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
নগরীর ময়লাপোতা মোড়ে অবস্থিত বেসরকারি এই হাসপাতালটিতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল জানায়, রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় তারা। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে খুলনা সদর ফায়ার স্টেশনের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় পরে আরও ইউনিট যোগ করা হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার সার্ভিসের মোট ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয় বলে খুলনা বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল ভবনের নিচতলার জেনারেটর রুম এলাকা থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। এরপর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। তবে আগুনের প্রকৃত উৎস ও কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জেনারেটর রুমের পাশাপাশি সেখানে হাসপাতালের বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থাকায় সেখান থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. রফিকুল হক বাবলু জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন না। মোবাইল ফোনে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন বলে জানান তিনি। তবে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিংবা কতজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের একটি ক্রেন সর্বোচ্চ ১৪ তলা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হলেও হাসপাতাল ভবনটি ১৬ তলা বিশিষ্ট হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এতে উপরের তলায় থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই বেশ কিছু রোগীকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে অনেককে শান্তিধাম মোড়ের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়ার কারণে আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। রাত হওয়ায় আশপাশের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আরিফ উল ইসলাম বলেন, “আমাদের ১২টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আগুন নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার তৎপরতা এবং রোগীদের নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের কাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারাও সহযোগিতা করেন”।