ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি
প্রকাশ : ৫৯ মিনিট আগে
ফটিকছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতকদের কোলে নিয়ে মায়েরা। প্রবা ফটো
সরকারি হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের হার বাড়িয়ে এবং অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নিরাপদ মাতৃত্বসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটির ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে প্রসূতি মায়েদের আস্থা যেমন বেড়েছে, তেমনি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাভাবিক প্রসবের সংখ্যা।
হাসপাতালটির সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ১৭টি শিশু। মা ও নবজাতক সবাই সুস্থ থাকায় চিকিৎসা শেষে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।
শুধু একদিনের চিত্রই নয়, গত ১০ দিনে হাসপাতালটিতে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে ৮৭টি নবজাতক। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই এ সংখ্যা পৌঁছেছে ৮২৮-এ। ২০২৫ সালে হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে জন্ম নেয় ৩ হাজার ৯৩১ শিশু। আর গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৯ হাজার নবজাতক এ হাসপাতালের মাধ্যমে পৃথিবীর আলো দেখেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, নবজাতকদের কোলে নিয়ে বাড়ি ফিরছেন মায়েরা। স্বজনদের মুখেও ছিল স্বস্তি ও আনন্দের ছাপ। তারা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
রোসাংগিরি ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার পর শুরুতে কিছুটা উদ্বেগে ছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের সহযোগিতায় স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে আমাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নিয়েছে। মা ও সন্তান দুজনেই সুস্থ আছে। সরকারি হাসপাতালে এত ভালো সেবা পাব, তা ভাবিনি।’
হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের নার্সিং সুপারভাইজার কৃষ্ণা প্রভাত দেবী জানান, প্রসূতি মায়েদের জন্য এখানে অ্যান্টেনাটাল কেয়ার (এএনসি), পোস্টনাটাল কেয়ার (পিএনসি), স্বাভাবিক প্রসব ও প্রয়োজনীয় সিজারিয়ানসহ সব ধরনের সেবা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘একদিনে ২১টি শিশুর জন্ম হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের সময়ও মোমবাতির আলোয় প্রসূতি মায়েদের সেবা দিতে হয়েছে। নবজাতকের কোনো জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু স্বাস্থ্য কনসালট্যান্ট ডা. মো. জয়নাল আবেদীন মুহুরী বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় জন্ম নেওয়া ১৭টি নবজাতককেই আমি পর্যবেক্ষণ করেছি। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, সবশিশুই সুস্থ রয়েছে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরে গেছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম বলেন, ‘ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন ধরে নরমাল ডেলিভারিতে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রসূতি সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় এ হাসপাতাল জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কারও অর্জন করেছে। আমরা সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কাজ করছি।’