নতুন সরকারের প্রথম বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট ঘোষণার পর খুলনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ একে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন এত বড় বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বাজেটকে গণমুখী ও উন্নয়নমুখী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জীবন ও জীবিকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবভিত্তিক ও সময়োপযোগী বাজেট দেওয়া হয়েছে।
তবে বাজেটের আকার বড় হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। তার মতে, নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে এবং এটি ঋণনির্ভর হতে পারে।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম জহির বলেন, বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কিছু উদ্যোগ থাকলেও এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের খুলনা বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট শামীমা সুলতানা শিলু বলেন, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের জন্য উদ্যোগগুলো ইতিবাচক। বাস্তবায়ন হলে তারা উপকৃত হবেন।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিশাল ঋণ ও বড় ঘাটতি নিয়ে এই বাজেট কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।
এনসিপির খুলনা মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও কিছু সামাজিক উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বড় ঘাটতি পূরণে অতিরিক্ত ঋণ বেসরকারি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পুলিশের গুলিতে চোখ হারানো জুলাইযোদ্ধা আব্দুল্লাহ শাফিল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলতার পরিচয়। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে। তবে সরকার ভর্তুকি, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করতে পারে।