চবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের উদ্যোগে
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বর্ণাঢ্য র্যালি, বৃক্ষরোপণ, পোস্টার ও পরিবেশগত মডেল প্রদর্শনী
এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের
করা হয়। র্যালিটি রেজিস্ট্রার ভবন এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে স্মারক
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেনের
সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ
আল-ফোরকান; বিশেষ অতিথিবৃন্দ হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক)
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন; উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক ড. মো.সফিকুল ইসলাম;
মোহাম্মদ সালামত উল্লাহ, মো. সফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে বেলা সাড়ে ১১টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে
স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এর আগে অনেকবার পরিবেশ দিবস উদযাপন করেছি কিন্তু
এটি আমাদের জন্য একটু ভিন্ন কারণ, আমরা এবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছি।
বর্তমান পৃথিবী মহামারিতে পরিণত হয়েছে নানান রোগের কারণে ক্যান্সারের
মতো রোগ আজ আমাদের গ্রাস করে ফেলছে। এর সবই পরিবেশ দূষণের কারণে হয়েছে। আমরা যদি পরিবেশের
কাছে ফিরে যাই তাহলে এসব দুর্যোগ থেকে বাঁচতে পারব।
আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুলাহ আল মামুন। তিনি
তার প্রবন্ধে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও প্রভাব তুলে ধরেন। যুগ যুগ ধরে ঘটে আসা জলবায়ু
পরিবর্তন নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।
পরিবেশ রক্ষায় যেসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে তিনি সেগুলো তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ
প্রভাব আজ বিশ্ববাসীর জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব
জীবনধারা গড়ে তুলতে হবে। জলবায়ুর ভারসাম্যতা বজায় রাখতে আমাদের কাজ করতে হবে। ফরেস্টি
ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫৬০ একর জায়গা যুগে বনায়ন কার্যক্রম
পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ফরেস্টি ইন্সটিটিউট জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত হয়েছে।
উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল -আমীন বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা
তৈরির পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও জোরদার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ
এবং সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ
নিশ্চিত করা সম্ভব।’
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পরিবেশ রক্ষায় আমরা
ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাচ্ছি, ইতোমধ্যে আমরা তিনবার প্রধানমন্ত্রীর পদক পেয়েছি। এ বছর
জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছি। আমরা আমাদের কাজকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।
বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ, বনভূমি রক্ষা, কার্বন নিঃসরণ
হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব
সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।