× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চকরিয়া রেলস্টেশন স্বপ্নে ছিনতাইকারীদের থাবা

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

চকরিয়া রেলস্টেশন স্বপ্নের আশপাশ এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য

চকরিয়া রেলস্টেশন স্বপ্নের আশপাশ এখন ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্য

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ চালুর মধ্যদিয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।

এ রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র চকরিয়া রেলস্টেশন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ এ স্টেশনকে ঘিরে মাতামুহুরী, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, লামা ও আলীকদমসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেয়। তবে সময়ের ব্যবধানে সেই স্বপ্নে নেমে এসেছে নিরাপত্তাহীনতার ছায়া।

বর্তমানে চকরিয়া রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ছিনতাই, চুরি এবং যাত্রী হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

হাফেজ তাওকিবুল ইসলামসহ দুইজন যাত্রী ৭-৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়ে বুধবার (১১ জুন) রাত সোয়া ৯টার দিকে সর্বস্ব হারান। তাওকিব চট্টগ্রামের শুলকবহর মাদ্রাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে চকরিয়া রেলস্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। এর দুই দিন আগে নয়ন নামে এক ছাত্র এবং তারও আগে রইসুল নামে আরেক ছাত্র ছিনতাই ও হামলার শিকার হন। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিরাতেই কোনো না কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে এ এলাকায়।

রেলওয়ে সূত্র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে চকরিয়া রেলস্টেশন এবং এর সংযোগ সড়কগুলোতে অন্তত ২৫টির বেশি ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ অনেক ভুক্তভোগী ঝামেলা ও আইনি প্রক্রিয়ার ভয়ে থানায় অভিযোগ করেন না।

স্টেশন চালুর পর থেকে অর্ধশতাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে গেছে। ফলে সংঘবদ্ধ চক্রগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় তুলনামূলক নিরাপত্তা থাকলেও সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে প্রবেশপথ ও সংযোগ সড়কগুলোতে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার অভাব, নিয়মিত টহলের ঘাটতি এবং নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে সন্ধ্যার পর সক্রিয় হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীরা।

পথচারীদের ভাষ্যমতে, যাত্রীদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা প্রায় নিয়মিত। অনেক ক্ষেত্রে সিএনজি অটোরিকশা ও ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

চকরিয়া রেলস্টেশন চালুর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখানে এখনো রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়নি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)-এরও দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় অংশই স্থানীয় থানা পুলিশের ওপর নির্ভরশীল।

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ পাওয়াই স্বাভাবিক। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে চকরিয়া রেলস্টেশন এলাকা অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হতে পারে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও স্টেশন এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এলাকার ব্যবসায়ী, যাত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা স্টেশনের প্রবেশপথে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়মিত পুলিশ টহল এবং স্থায়ী জিআরপি ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মাতামুহুরী ফাঁড়ির পুলিশ রামপুর এলাকায় নিয়মিত টহল দেয়। কোনো ঘটনার খবর পেলে থানা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়।

ফাঁড়ির পুলিশ অনেক সময় রেলস্টেশন সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল না দিয়ে অন্যত্র অবস্থান করে ফিরে যায়। ফলে, কিশোর গ্যাংসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র নির্বিঘ্নে ছিনতাই চালিয়ে যাচ্ছে বলে তাদের দাবি।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প। এ প্রকল্পের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হলে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যথায় যাত্রীদের আস্থার পাশাপাশি এ গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের সাফল্যও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা