কয়রা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
কয়রা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন হাটের ইজারাদার মো. শেখ মিজানুর রহমান। প্রবা ফটো
দাবিকৃত ঘুষের টাকা না দেওয়ায় খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী হাটের ইজারাদারের নির্মিত ঘর কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করার অভিযোগ উঠেছে। অথচ একই স্থানে দুটি বসতঘরসহ ১১টি অবৈধ স্থাপনা বহাল তবিয়তে রয়েছে।
কয়রা প্রেস ক্লাবে মঙ্গলবার (৯ জুন) সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন হাটের ইজারাদার মো. শেখ মিজানুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান জানান, হাটের শৃঙ্খলা রক্ষা ও খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক অনুমতি নিয়ে তিনি ঘরটি নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু ঘর নির্মাণের প্রাক্কালে ইউএনও কার্যালয়ের সহকারী তাপসের মাধ্যমে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল বাকীকে ১০ হাজার টাকা এবং তাপসকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ইউএনও নিজে আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর আমাদী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব সিরাজুল ইসলাম তাঁর কাছে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন, যার মধ্যে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো সাইফুল ইসলামের জন্য ২০ হাজার এবং নায়েবের স্টাফদের জন্য ২০ হাজার টাকা চাওয়া হয়। তিনি নায়েবকে ৩ হাজার টাকা দিতে সক্ষম হন। কিন্তু দাবিকৃত বাকি টাকা না পেয়ে গত ৮ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জান্নাতুল ফেরদাউসকে পাঠিয়ে তাঁর ঘরটি উচ্ছেদ করা হয়। এই বিষয়ে মুখ খুললে তাঁকে নানাভাবে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
১ নং আমাদী ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) সিরাজুল ইসলাম বলেন, "ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে আমরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি। ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।
কয়রা উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো সাইফুল ইসলাম বলেন, "ওখানে দুটি ঘরের বিষয়ে অভিযোগ ছিল। সরেজমিনে পরিদর্শন করে সত্যতা মেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে এসিল্যান্ড স্যারের সাথে গিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করি। ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নায়েব সিরাজুল ইসলাম জানেন, আমি কিছুই জানি না।
অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, "টাকা-পয়সার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই এবং এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যেহেতু সরকারি জায়গা থেকে তাঁর অবৈধ স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়েছে, তাই ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে মনগড়া কথা বলছেন। সরকারি জায়গায় এভাবে ঘর তোলার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার 'মৌখিক অনুমতি' দেওয়ার সুযোগ নেই।