কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫৯ মিনিট আগে
কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকটে বন্ধ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ। প্রবা ফটো
রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের (কপাবিক) পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বুধবার (১০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রটির ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাকি দুইটি ইউনিট থেকে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, অথচ পুরো কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু থাকলে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। তিনি আরও জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আরও কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে যেকোনো সময় অবশিষ্ট দুইটি ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক সীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির স্তর এই পর্যায়ে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল।
কপাবিকের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে হ্রদের পানির স্তর ক্রমাগত কমছে। চলতি সপ্তাহে কিছু বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। রুল কার্ভ অনুযায়ী পানির লেভেল ৭৮.৩৪ ফুট মিন সি লেভেলে থাকার কথা থাকলেও বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তা ছিল ৭৩.৯১ ফুট মিন সি লেভেল। অর্থাৎ বর্তমানে পানির স্তর ৪.৪৩ ফুট কম রয়েছে।
কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, ওই সময় পর্যন্ত শুধু দুটি ইউনিট চালু ছিল, যেগুলো থেকে মোট ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এর মধ্যে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিট থেকে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। দ্রুত ভারী বৃষ্টিপাত না হলে বাকি ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।