তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
তাহিরপুরে হামলার সময় নদীতে পড়ে যাওয়া আমিনের মরদেহ মঙ্গলবার উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে একটি হাউসবোট ও মালামালবাহী নৌকার সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আমিন মিয়া (২৩) নামে এক নৌশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তার ভাই মাহফুজ মিয়া।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হাউসবোটের লোকজনের হামলায় আমিন নদীতে পড়ে যান এবং পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আমিন মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের কলাপাড়া গ্রামের কালাম মিয়ার ছেলে।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার রাত আনুমানিক ৪টার দিকে তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর বাজার ঘাট এলাকায় কেবিটি প্রেজেন্টস নোটিলাস নামে ঢাকাইয়া হাউসবোট ও ভৈরব থেকে আসা একটি মালামালবাহী নৌকার মধ্যে ধাক্কা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের সময় মালবাহী নৌকায় ঘুমিয়ে থাকা আমিন মিয়া চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে বাইরে বের হলে হাউসবোটের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে গুরুতর আহত হয়ে তিনি নদীতে পড়ে যান। এ সময় মাহফুজ মিয়াও আহত হন। ঘটনার পর থেকে আমিন মিয়াকে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন মঙ্গলবার (১০ জুন) রক্তিম নদীতে তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
নিহতের বাবা কালাম মিয়া বলেন, হাউসবোটের ১০-১৫ জন লোক আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমার ছেলেকে মারধর করলে সে পানিতে পড়ে যায়। পরে আমাকে হাউসবোট মালিকের নির্দেশে ধরে নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বেঁধে রাখা হয় এবং মিথ্যা স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।
তাহিরপুর থানার এসআই নাজমুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নোটিলাস হাউসবোটের মালিক ফাহাদ বায়জিদ হিমুসহ ৯ জন স্টাফকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।