দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে টমটমে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন পরে গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। প্রবা ফটো
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে টমটমে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী ও শ্বশুরকে আটক করেছে পুলিশ।
উপজেলার ৬ নম্বর বাজার ইউনিয়নের চরহাসনাবাদ এলাকায় বুধবার (১০ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী লিপি বেগম (২৮) ওই এলাকার সিরাজ চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা এবং শাহজামালের প্রথম স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে একটি টমটমে করে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লিপি বেগমকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বামী শাহজামাল ও শ্বশুর মোসলেম মৃধা। এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে টমটমটি থামিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং হুমকিধমকি দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে স্থানীয়রা লিপি বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান এবং অভিযুক্ত দুজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাদের হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আহত হেলাল মৃধা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে বাধা দিতে গেলে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী লিপি বেগম বলেন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তার ওপর নির্যাতন বেড়ে যায়। বুধবার সকালে তাকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে টমটমে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজামাল বলেন, আমি দুটি বিয়ে করেছি। লিপি আমার প্রথম স্ত্রী। পারিবারিক বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছে এবং তাকে নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। একইভাবে শ্বশুর মোসলেম মৃধাও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দশমিনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।