বেনাপোল (যশোর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধানশিক্ষিকার বিরুদ্ধে বুধবার ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সম্মিলিত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধানশিক্ষিকা শাহানারা খাতুনের বিরুদ্ধে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষায় নিজের মেয়েকে অনৈতিকভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় বিদ্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। গতকাল সকালে তিনি বিদ্যালয়ে এসে নিজ কার্যালয়ে বসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থান নেয় এবং তার অপসারণের দাবি জানায়।
জানা যায়, চলতি বছরের গত ৯ মে এসএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় প্রধান শিক্ষিকা গোপনে নিজের মেয়ের উত্তরপত্র সংগ্রহ করে তাতে সংশোধন করেন এবং বিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর সহায়তায় পুনরায় জমা দেন বলে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় গত ৯ মে তাকে ও বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফাতেমা খাতুনকে আটক করে পুলিশ। পরে শিক্ষা বিভাগের দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান শাহানারা খাতুন। তবে একই মামলার অপর অভিযুক্ত ফাতেমা খাতুন এখনও কারাগারে রয়েছেন।
অভিভাবকরা জানান, এমন জঘন্য জালিয়াতির পর যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে পুনর্বহাল করা শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক নেতিবাচক বার্তা। আদালতের বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব থেকে দূরে রাখা উচিত।
তবে প্রধান শিক্ষিকা শাহানারা খাতুন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে যোগদানে তার কোনো আইনি বাধা নেই। কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উস্কানি দিয়ে বিক্ষোভে নামিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার একেএম নুরুজ্জামান জানান, মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পক্ষ থেকে এখনও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই আইনি বাধা না থাকায় তিনি দায়িত্বে ফিরতে পেরেছেন।