জনগোষ্ঠীর চাহিদা, দুর্যোগ ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অ্যাডভোকেসি সভা। প্রবা ফটো
খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা, দুর্যোগ ঝুঁকি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান (Local Resilience Plan-LRPs) জনসম্মুখে উপস্থাপন ও প্রচারের লক্ষ্যে এক অ্যাডভোকেসি সভা বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টায় লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, স্থানীয়
উন্নয়ন পরিকল্পনায় সম্প্রদায়ের চাহিদা অন্তর্ভুক্তকরণ এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে
সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড
ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর উদ্যোগে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট
ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-র সহযোগিতায় এ
সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউসার হামিদ। তিনি বলেন, জলবায়ু
পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পর্যায়ে প্রণীত রেজিলিয়েন্স পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত
হলে দুর্যোগের ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রণীত লোকাল
রেজিলিয়েন্স প্ল্যান (এলআরপি) উপস্থাপন করা হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনগণের
চাহিদা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পানি সংকট, কৃষি উৎপাদন, জীবিকা
উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবিলার করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন CoRLIA প্রকল্পের
লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর সবিনয় চাকমা। তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত ও
অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রণীত এ পরিকল্পনা ভবিষ্যতে জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় বাস্তবতা
অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
CoRLIA প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা
ডা. মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, ইউনিয়ন পরিষদের
চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, সুইসালা চৌধুরী, ত্রিলন চাকমা এবং জুকেস চাকমা।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা,
জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি, নারী নেত্রী, কৃষক ও স্থানীয়
জনগণ অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়
সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি
জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা শেষে স্থানীয় জনগণের চাহিদাভিত্তিক
পরিকল্পনাগুলো উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নের
আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া জলবায়ু সহনশীল সমাজ
গঠন সম্ভব নয়। তাই এলআরপি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং একটি নিরাপদ,
টেকসই ও সহনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।