× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছোট অস্ত্রে টার্গেট কিলিং, উদ্বেগ

ফরহাদ সুমন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিরা এখন নাইন এমএম, টরাস বা রিভলবারের মতো বিদেশি ছোট অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিরা এখন নাইন এমএম, টরাস বা রিভলবারের মতো বিদেশি ছোট অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় সাম্প্রতিক 'টার্গেট কিলিং' বা পরিকল্পিত হত্যাকান্ডগুলোতে ছোট আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। 

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভাড়াটে খুনিরা এখন নাইন এমএম, টরাস বা রিভলবারের মতো বিদেশি ছোট অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র বলছে, মূলত চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব হত্যাকান্ড ঘটছে।

এসব ঘটনার কয়েকটির সঙ্গে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর অনুসারীদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থানা থেকে লুট হওয়া কিছু অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে চলে গেছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের সীমান্ত দিয়েও অবৈধ অস্ত্রের চালান ঢুকছে। নগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকায় বর্তমানে ১৮০ জন অস্ত্রধারী ও অপরাধী রয়েছে। পটপরিবর্তনের পর জামিনে বেরিয়ে অনেকেই নতুন করে সক্রিয় হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যমতে, গত ২১ মাসে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় অন্তত ৩০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৬টিই ছিল ‘টার্গেট কিলিং’। এসব হত্যার বড় অংশেই পিস্তলসহ ছোট আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড চলতি বছরের ৭ মে নগরীর বায়েজিদে বোনের বাসায় বেড়াতে আসা হাসান রাজু নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে রেশমি আক্তার নামের ১২ বছরের এক শিশুও প্রাণ হারায়। পরে এই ঘটনায় ব্যবহৃত একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ২৭ এপ্রিল রাউজানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুলি করে হত্যা করা হয় যুবদলকর্মী নাছির উদ্দীনকে।

গত বছরের ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামীর চাইলতাতলি এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলাকে। ভিডিও ফুটেজ ও গুলির খোসা থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়, সেখানে নাইন এমএম পিস্তল ব্যবহৃত হয়েছিল। 

একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে বাবলার সহযোগী 'ঢাকাইয়া আকবর' এবং ২৪ জানুয়ারি নোয়াপাড়ায় খাতুনগঞ্জের আড়তদার জাহাঙ্গীর আলমকেও ছোট অস্ত্র ব্যবহার করে হত্যা করা হয়।

অশান্ত রাউজান

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় রাজনৈতিক হানাহানি ও বিরোধের জেরে অন্তত ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, রাউজানে বর্তমানে অন্তত সাতটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয়, যার মধ্যে ‘ডাকাত আলম’ গ্রুপের নাম সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া

হাবীব আহসান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগ নিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসা বন্ধ করতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পাশাপাশি ৫ আগস্টের পর যেসব বৈধ অস্ত্র জমা পড়েনি, সেগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেওয়া জরুরি।”

থানার লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে সিএমপির সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সিএমপির বিভিন্ন থানা থেকে নয়শর বেশি অস্ত্র লুট হয়েছিল। ধারাবাহিক অভিযানে আটশর বেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে।

তিনি আরও বলেন, “সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আসা ঠেকাতে বিজিবি কাজ করছে। আর আমরা প্রতিদিন অভিযান চালিয়ে যেসব অস্ত্র উদ্ধার করছি, সেগুলো লুট হওয়া অস্ত্র কি না, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিল্পাঞ্চল ও ডিবি) রাসেল বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। রাউজানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২০টি স্থানে তল্লাশিচৌকি বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষেরও সহযোগিতা করতে হবে।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা