মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সমর্থনে সাড়ে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা প্রদর্শন করে সাড়া ফেলেছেন মাগুরা সদরের কৃষক আমজাদ হোসেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানির সমর্থনে এবার সাড়ে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা প্রদর্শন করে সাড়া ফেলেছেন মাগুরা সদরের কৃষক আমজাদ হোসেন।
মাগুরা সদরের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের স্কুল মাঠে বুধবার সকালে পতাকাটি প্রদর্শন করা হয়।
এ পতাকা দেখতে কৌতূহলী সাধারণ মানুষ এবং শুভানুধ্যায়ীরা মাঠে ভিড় করেন।
জানা যায়, গ্রামের নেহাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. আমজাদ হোসেন (৭৮) পেশায় একজন কৃষক। ১৯৮৭ সালে একটি জটিল শারীরিক রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন চিকিৎসকের দীর্ঘদিন চিকিৎসা গ্রহণ করেও তিনি কোনো সুফল পাননি। হতাশাগ্রস্ত আমজাদ হোসেন ২০০৪ সালে এক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মান ওষুধ সেবন করেন এবং ২০০৫ সালে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকেই জার্মানি দেশের প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হতে থাকে।
২০০৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানি ফুটবল দলের সমর্থনে তিনি প্রথম দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করেন। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে ২০১০ সালে পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় দুই কিলোমিটারে। ২০১৪ সালে নিজের পাঁচ শতাংশ জমি বিক্রি করে সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করলে তা জার্মান দূতাবাসের নজরে আসে। ওই সময় মাগুরা স্টেডিয়ামে প্রদর্শিত পতাকা দেখতে এসে আমজাদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. ফার্দিনান্দ ফন ওয়েহে।
এরপর ২০১৮ সালে আমজাদ হোসেন সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করেন। সেই পতাকা দেখতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান দূতাবাসের কূটনীতিক কারেন উইজোরা এবং জার্মান সংস্কৃতি ও শিক্ষা কর্মকর্তা তামারা কবীর আমজাদ হোসেনের গ্রামের বাড়িতে যান।
২০২২ সালে ৩০ শতাংশ জমি বিক্রি করে তিনি কারিগরদের মাধ্যমে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা তৈরি করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ২০২৬ সালে এসে এ পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে।
শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, “আমজাদ হোসেনের কারণে জেলার পরিচিতি বাড়ছে, তাতেই আমরা খুশি। আমরা চাই কৃষক আমজাদ হোসেনের এই পতাকা জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষিত হোক।”
জেলার ফুটবল সংগঠক সৈয়দ বারিক আনজাম বারকি বলেন, “আমজাদ হোসেন জার্মানি ফুটবল দলের একজন নিবেদিত ভক্ত। একজন দরিদ্র কৃষক হয়েও দীর্ঘ পতাকা তৈরি করে তিনি ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসার অনন্য প্রকাশ ঘটিয়েছেন। আমার মতে, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম পতাকা। আমি আশা করি, ফুটবল ইতিহাসে এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
আমজাদ হোসেন বলেন, “দীর্ঘদিন রোগভোগের পর জার্মান ওষুধ সেবন করে সুস্থ হয়েছি। এরপর থেকেই জার্মানি দেশের প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়েছে। আমি সম্পদ বিক্রি করলেও যতদিন বেঁচে থাকব, এই ভালোবাসা অব্যাহত রাখব। আগামী ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জার্মানি দলের পতাকা তৈরি করব। আমার আশা, আমার মৃত্যুর পর জার্মানি যেন তাদের জাদুঘরে এই পতাকা সংরক্ষণ করে।”