ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ভবনের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে ছাদের বিশাল অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনায় ঘটেছে। অল্পের জন্য রক্ষা পায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী।
ভৈরব পৌর শহরের কালিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে।
ভৈরব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতিদিনের মত স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। স্কুলের ৪০ বছরের পুরনো ভবনে চলে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠদান। এদিন সেই ভবনের তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে ছাদের বিশাল অংশের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে সৌভাগ্যক্রমে সেই বেঞ্চে কোন শিক্ষার্থী না থাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা দৌড়ে এসে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুম থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৪০ বছরের পুরনো ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে প্রতিটি কক্ষেই বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মেঝে জুড়ে ছড়িয়ে আছে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেই তিনটি ক্লাসে ১৫৯ জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হচ্ছে।
অভিভাবক রায়হান মিয়া বলেন, “অল্পের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। এখন সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে”।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্চিতা রানী নাহা বলেন, “বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছি। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে অন্য ভবনে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ওই ভবনে ক্লাস নেওয়া বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুতই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছিদ্দিকুর রহমান জানান, “কালিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলাকালীন পুরানো ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাটি প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে জেনেছি। এই বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে ভবনটি পরিদর্শন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।
প্রসঙ্গত, পৌর শহরের কালিপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে চারটি কক্ষ। এছাড়া ২০০৮ সালে স্কুলে আরেকটি দুতলা ভবন নির্মিত হয়। বর্তমানে এই স্কুলে ৩০২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।