কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৪০ পিএম
আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৫৯ পিএম
সমুদ্রতীরে চিরকুট লেখা সাম্পান হাতে কবিরা। ছবি : প্রবা
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে চিরকুট লেখা বিশটি প্রতীকী সাম্পানে দেড় শতাধিক শান্তির বার্তা সমুদ্রে ভাসিয়েছেন একদল কবি। এসব বার্তায় সংঘাত, হানাহানির প্রতিকার চেয়ে শান্তিময় পৃথিবী বিনির্মাণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের নাম ‘শেখ হাসিনা শান্তি সৈকত’ ঘোষণা করা হয়।
কক্সবাজারে চলমান তিন দিনব্যাপী দরিয়ানগর আন্তর্জাতিক কবিতামেলা ২০২২-এর দ্বিতীয় দিন শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে এই শান্তির বার্তা সমুদ্রে ভাসান দেশ-বিদেশের কবিরা।
এর আগে সৈতকের নাম ‘শেখ হাসিনা শান্তি সৈকত’ করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ও জাতিসত্তার কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পঁচাত্তরের কালো অধ্যায়ের পর দেশের একটি কলঙ্কিত ইতিহাস সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর এ কলঙ্ক মুছে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেন। পার্বত্য এলাকায় শান্তি চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী শান্তির বার্তা দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গা সংকটের চরম অমানবিক পরিস্থিতিতে মানবতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। উপাধি পান মানবতার মা হিসেবে। সবকিছু বিবেচনা করে দেশ-বিদেশের কবিরা মনে করেন, একটি শান্তিময় বিশ্ব দেখতে চান শেখ হাসিনা। তাই তাকে সম্মান জানিয়ে কক্সবাজার সৈকতকে ‘শেখ হাসিনা শান্তি সৈকত’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।”
আন্তর্জাতিক লেখক দিবস উপলক্ষে শনিবার সকালে কক্সবাজার শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অপর্ণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কবিতা মেলার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচী। সেখান থেকে সাদা পতাকা হাতে শান্তির যাত্রা করেন কবিরা। কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত মাঠে এসে এ যাত্রা শেষ হয়। মাঠে এসে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, কবিতা মেলার পতাকা ও রাইটার্স ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন তারা। এরপর পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ সুভাষ হলে শুরু হয় কবিতা পাঠ ও আলোচনা। সেখানে কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, কবি আসাদ মান্নান, শেখ রবিউল হক, কবি হাসানাত লোকমান, জেলার পুলিশ সুপার মো. মাহাফুজুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিভীষণ কান্তি দাশ, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুল ইসলাম, কবিতা মেলা কমিটির আহবায়ক মো. নজিবুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় কক্সবাজারের নানান ক্ষেত্র বিবেচনায় কবিতা মেলার পক্ষে পাঁচজন কবিকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন শাহ আলম, সুলতান আহমেদ, খালেদ মাহবুব মোর্শে, আসিফ নূর ও মানিক বৈরাগী।
এ দিন বিকালে কবিতা মেলার মঞ্চে শান্তির ঘোষণা, ফানুস উত্তোলন প্রভৃতি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি।
মেলার শেষ দিন রবিবার (১ জানুয়ারি) রামুতে ১০০ ফুট বৌদ্ধ মূর্তি পরিদর্শন, কবিতা পাঠ, কক্সবাজার ঈদগাঁওয়ে হুদা পাঠাগার উদ্বোধন, ঈদগাঁও স্কুলে আলোচনা ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে শেষ হবে কবিতা মেলার এবারের আসর।