কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫৮ মিনিট আগে
আপডেট : ৩৭ মিনিট আগে
সোহাগী জাহান তনু। ফাইল ছবি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় সাবেক দুই সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক সোমবার (৮ জুন) বিকালে এ আদেশ দিয়েছেন।
এর আগে দুপুরে এ মামলার সন্দেহভাজন আসামি হাফিজুর রহমানকে নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়। পরে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে তারা হলেন— কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত তৎকালীন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদ কুমিল্লা সেনানিবাসে ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গড়ঘাটা এলাকায়। এরইমধ্যে তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে। শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন তিনি। শাহীন বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তার বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। তিনি এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছেন।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনা নিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন তনুর বাবা। তদন্তে তনুর মরদেহের কাপড়ে তিন ব্যক্তির ডিএনএ পাওয়া যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করেও জড়িতদের শনাক্ত পারেনি পুলিশসহ একাধিক সংস্থা।
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করে আদালত। পাশাপাশি সেই তিন ব্যক্তির ডিএনএ ম্যাচ করার নির্দেশও দেওয়া হয়। তাদেরই একজন সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান।