মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চিকিৎসকরা বিভিন্ন দাবির পক্ষে স্লোগান দেন এবং স্বাস্থ্যখাতে চলমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. আবু ইউসুফ, সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আদনান কবির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তওসিফ ফারহান সামি, মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফিউল সাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোক্তাদির আল বিরুনী।
এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের নিয়মিত সেবাকার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। তবে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের দাবি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখার বিষয়টি তারা বিবেচনায় রাখছেন এবং একই সঙ্গে ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বলেন, চিকিৎসকদের দাবিগুলো যৌক্তিক হলে সরকার দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিক। তবে আন্দোলনের কারণে সাধারণ রোগীরা যেন ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কামরুল ইসলাম নামের এক রোগী জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে কিছু সেবায় ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নতুন রোগীদের পরামর্শ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত তদারকিতে প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এফসিপিএস (ফেলো অব কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস) কোর্সে অধ্যয়নরত চিকিৎসক, ইন্টার্ন ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের পেশাগত অগ্রগতি ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতা, অপ্রতুল বেতন-ভাতা এবং বেসরকারি খাতে কর্মরত চিকিৎসকদের চাকরির অনিশ্চয়তা দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সমাজের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে”।
আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানান, তাদের দাবিগুলো নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্নভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আন্দোলনে নেমেছেন।
সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, “দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে এসব দাবি বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। চিকিৎসকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে দক্ষ জনবল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে”।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে কর্মসূচি আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে”।