সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগানো এক নাশকতার ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর ৩ দিনেও মামলা না নেওয়ায় অভিযোগে নিহতের লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, মামলা নিতে গড়িমসি করার পাশাপাশি আপস-মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।
সোমবার (৮ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে
উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে শতাধিক মানুষ মরদেহ নিয়ে সৈয়দপুর
শহরে প্রবেশ করেন। পরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান
নেন এবং শেরে বাংলা সড়ক অবরোধ করেন।
এতে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান
চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং থানা এলাকায়
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলেও
বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল
করিম রেজার অপসারণ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যান।
জানা যায়, গত ৩ জুন ভোরে খাতামধুপুর
ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকায় আফাজ উদ্দিনের (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে
দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয়। তবে ঘটনার সময় নুর হোসেন সেখানে না থাকায় আগুনে
দগ্ধ হন তার বাবা আফাজ উদ্দিন, যিনি পাশের পুরোনো বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গুরুতর আহত
অবস্থায় তাকে প্রথমে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি
হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে একই দিনে ঢাকার জাতীয় বার্ন
ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার
পর গত শনিবার তিনি মারা যান।
নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন,
কয়েক মাস আগে গাছের ঝরা পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আব্দুস সালাম চঞ্চলের
সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জের ধরে তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন
ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাক্রমে ভাই সেখানে না থাকায় বাবা ওই হামলার শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, বাবার মৃত্যুর পর থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে তিন দিনেও মামলা নেওয়া হয়নি। উল্টো ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়। বাধ্য হয়েই আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দপুর
থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা। তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন
ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ
লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি। পরে একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায়
সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশ নিজেরাই এজাহার
সংশোধন করে দিতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি। আজ সকালে আসতে বললে, তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে
থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। ইতোমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয়
আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার
করে দাবি করেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার
চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই এবং এ ঘটনায় তাদের কোনো
সম্পৃক্ততা নেই। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা
চালাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।