হবিগঞ্জ ও বানিয়াচং প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
বড়ইউড়ি ইউনিয়নে সোমবার সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে চেয়ার এবং দায়িত্ব নিয়ে চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্বের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার ৭ নম্বর বড়ইউড়ি ইউনিয়নে সোমবার সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমদ (ফরিদ উদ্দিন) সম্প্রতি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। তার অবর্তমানে প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল (কপিল উদ্দিন) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে ফরিদ আহমদ জামিনে মুক্ত হয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের উদ্যোগ নেন এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে বলেন। তবে এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে তার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিলের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। ফরিদ আহমদের সমর্থনে কদুপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন এবং কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড এবং কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওসি শেখ নাজমুল হক বলেন, “চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ও চেয়ার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে”।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ বলেন, “আমার অবর্তমানে মিজানুর রহমান কপিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেয়। আমি আসার পর সে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় হাইকোর্ট, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যারের লিখিত অর্ডার নিয়ে আমি চেয়ারম্যান অফিসে যাই। পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নিয়ে থাকা মিজানুর রহমান কপিল আমি এবং আমাদের লোকদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে আমাদের লোকজন অনেক আহত হয়েছেন। আমি এর বিচার চাই”।
অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল বলেন, “১০ মাস যাবত ফরিদ চেয়ারম্যান জেলে ছিলেন। আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করি। জেল থেকে বের হয়ে আওয়ামী লীগের অনেক লোককে নিয়ে চেয়ারম্যান অফিসে আসলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে”।