নলছিটি (ঝালকাঠি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ওসমান বিন হাদির হত্যায় জড়িতদের শনাক্তের দাবিতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারই বড় বোন মাছুমা হাদি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দেওয়া বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে ওসমান বিন হাদির হত্যায় জড়িতদের শনাক্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারই বড় বোন মাছুমা হাদি।
ঝালকাঠির নলছিটি প্রেসক্লাবে সোমবার সকাল ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানান তিনি।
মাছুমা হাদি বলেন, “হাদির হত্যা সঙ্গে কারা জড়িত, তা কূটনৈতিকভাবে স্পস্ট করা রাষ্টের দায়িত্ব”।
তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জির বক্তব্যের রহস্য বের করে খুনিদের চিহ্নিত করতে হবে। আন্তর্জাজিকভাবে সহায়তা নিয়ে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি সরকারকে।
মাছুমা হাদী প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের পরিবারের বিনীত অনুরোধ, আপনি অতিদ্রুত আমার ভাই ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইনসাফের প্রতীক ওসমান হাদি হওয়ার সুযোগ করে দিবেন।
হাদি হত্যার আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদাসীনতাকে দায়ি করে বলেন, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে গুলি করে কিভাবে খুনিরা ভারতে পালিয়ে গেল, রাষ্ট্রীয় কোন বাহিনী কিংবা রাজনৈতিক কোন দলের নেতাকর্মীরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা-ও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সন্মেলনে মাছুমা হাদি বলেন, “বারবার কেনো চার্জশীটের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে, এটা জানতে চায় বাংলাদেশের মানুষ। ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা, অর্থের যোগানদাতাসহ খুনের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তিকে চার্জশীটভুক্ত করে জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে”।
তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি হাদি হত্যার বিচারে উদাসীন থাকেন, তাহলে গুরুত্বপূর্ণ এই পদ ছেড়ে দিয়ে জনগণের পছন্দের অন্য কাউকে জায়গা করে দিতে হবে”। সংবাদ সম্মেলনে হাদির ভগ্নিপতি মো. আমির হোসেনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, গত সোমবার পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে তার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন।
যদিও মমতা তার পুরো বক্তব্যে সরাসরি ওসমান হাদির নাম মুখে নেননি, তবে গত মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ কর্তৃক হাদি হত্যার মূল আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীরকে গ্রেপ্তারের ঘটনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, খুনিদের গ্রেপ্তারের পর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করেছিলেন। দেশের স্বার্থের কথা বলে বিষয়টি যাতে জানাজানি বা প্রকাশ না হয়, সেই বিষয়ে রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দিতে মমতা ব্যানার্জিকে অনুরোধ করেছিলেন অমিত শাহ।
মমতা ব্যানার্জি জোর দিয়ে বলেন, “কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ (পশ্চিমবঙ্গে) গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার”।