× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধের দাবিতে আর্তনাদ

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে

দশমিনা তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থায়ী বাঁধ জরুরি। প্রবা ফটো

দশমিনা তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থায়ী বাঁধ জরুরি। প্রবা ফটো

পটুয়াখালীর দশমিনায় প্রমত্তা তেঁতুলিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে প্রতি বছর বিলীন হচ্ছে তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে শত শত পরিবার। নতুন করে নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে উপজেলার নদীতীরবর্তী চারটি ইউনিয়নের দুই সহস্রাধিক পরিবারের।

এ ছাড়াও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক, স্কুল, বেড়িবাঁধ ও ব্লকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়ীয়া ও ঢনঢনিয়া, দশমিনা সদর ইউনিয়নের দশমিনা, হাজীরহাট, কাটাখালী, গোলখালী ও সৈয়দজাফর, রণগোপালদী ইউনিয়নের পূর্ব আউলিয়াপুর, আউলিয়াপুর, চরঘূনি ও পাতারচর এবং চরবোরহান ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবোরহান গ্রামের নদীতীরবর্তী মানুষ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। 

এদিকে উপজেলার মূল ভূখন্ডের সাথে সংযুক্ত ইউনিয়নগুলোতে বেড়িবাঁধ থাকলেও মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন চরবোরহান ইউনিয়নের চারদিকে নদী থাকা সত্ত্বেও বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকাতে নেই কোনো বেড়িবাঁধ। ফলে পানির সঙ্গে যুদ্ধ করেই চলে ওই ইউনিয়নের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা।

জানা যায়, আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল হলেও মূলত আশ্বিন মাস পর্যন্ত টানা চার মাস চলে বর্ষার দাপট। অন্যদিকে চৈত্র-বৈশাখ থেকেই বাড়তে থাকে পানির চাপ। এ সময় নদী ভাঙনে বিলীন হয় মানুষের ভিটেমাটি ও শেষ সম্বল। তাই এ সময়গুলোতে সব হারানোর শঙ্কায় দিন কাটে নদীতীরের মানুষের। 

ভাঙনের শিকার দশমিনা সদরের হাজীরহাট লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প তৈরি এবং তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করে। তাৎক্ষণিকভাবে ফেলা এসব জিও ব্যাগ ভাঙনের তীব্রতার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করেন তারা। তাদের মতে, এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও ভুক্তভোগীদের জন্য টেকসই সমাধান হচ্ছে না।

দশমিনার সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) শুষ্ক মৌসুমে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিয়ে বর্ষা মৌসুমে জিও ব্যাগ ফেলে। এটি রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় মাত্র। শুষ্ক মৌসুমে ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে আমরা নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পেতাম।’

হাজীরহাট লঞ্চঘাট বায়তুল ফজল জামে মসজিদের ইমাম মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ‘কয়েক দিন আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড মসজিদটি রক্ষায় ২৯ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি বাজেট দিয়েছে। ওই বাজেটের কাজ অপরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হওয়ায় মসজিদের বারান্দা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। কয়েক দিন আগে পানির উচ্চতা কম ছিল। ওই সময়ে দুই দিন কাজ বন্ধ ছিল। সে সময় কাজ চলমান থাকলে হয়তো মসজিদের বারান্দা বিলীন হতো না। এমনকি মসজিদের ভেতরেও বড় বড় ফাটল ধরেছে।’

লঞ্চঘাট বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা কবির বলেন, ‘সবকিছুই তো নদীতে ভেঙে চলে গেছে। এখন কোনো রকমে একটি ছাপড়া ঘর করে নদী তীরে বসবাস করছি। জানি না এবার বর্ষায় এটুকুও টিকিয়ে রাখতে পারব কি না।’

উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের ঢনঢনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোশারেফ হোসেন রাড়ি বলেন, ‘নদীভাঙন নিত্যদিনের ঘটনা। গত দশ বছরে তিনবার বসতভিটার স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে। তারপরও নদী আমাদের পিছু ছাড়ছে না। আবার ভাঙনের কবলে পড়লে কোথায় যাব, জানি না।’

শুধু কবির কিংবা মোশারেফ নন, এমন শঙ্কায় রয়েছেন উপজেলার নদীতীরবর্তী চার ইউনিয়নের দুই সহস্রাধিক পরিবার। ভুক্তভোগীদের দাবি, কর্তৃপক্ষ ভাঙন রোধে উদ্যোগ নিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। এখন স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। তাদের মতে, টেকসই বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী ব্লক ছাড়া তেঁতুলিয়ার ভাঙন রোধ সম্ভব নয়। 

পাউবো পটুয়াখালী জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীরহাট এলাকায় মসজিদ এবং এর পাশের বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে মোট ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। 

পটুয়াখালী জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব মুঠোফোনে জানান, ‘পটুয়াখালী জেলায় নদীর অভাব নেই। নদীর দুই পাড়েই ব্যাপক ভাঙন হয়। আসলে সব জায়গায় কাজ করার মতো সক্ষমতা এখনও আমাদের নেই। যেসব স্থাপনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, যেমন মসজিদ, বেড়িবাঁধ ও স্কুলÑ সেগুলোতে আমরা বেশি অগ্রাধিকার দিই। বাকি ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোও আমি পরিদর্শন করেছি। সেখানেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ছাড়াও আমাদের একটি প্রকল্পের জন্য নদী সমীক্ষা চলমান রয়েছে। ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা বড় একটি প্রকল্প প্রস্তাব করব। আপাতত বর্ষাকালে যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা বেড়িবাঁধ ভেঙে না যায়, সে বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। দশমিনার হাজীরহাটে মসজিদ ও পাশের বেড়িবাঁধ রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। বালু সংকটের কারণে একদিন কাজ বন্ধ ছিল। আরও কয়েকটি পয়েন্ট পরিদর্শন করেছি। সেগুলোতেও আমরা কাজ করব।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা