এহসান রিয়াজ, রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি হওয়ায় বেশীরভাগ রোগীই মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধারণক্ষমতার প্রায় তিনগুণ রোগী ভর্তি হওয়ায় চরম সংকটের মধ্যে চিকিৎসাসেবা চলছে। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে বর্তমানে ১৪০ রোগী ভর্তি রয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র গরমের পাশাপাশি ডেঙ্গু, হাম, ডায়রিয়া ও মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে শয্যা সংকটে বেশীরভাগ রোগীই মেঝে ও বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে রোগী ও রোগীর স্বজনরা চরম অস্বস্তি তে রয়েছেন। তারা শয্যা সংখ্যা, চিকিৎসক-নার্স ও ওষুধ সরবরাহ আরো বাড়ানোর দাবি জানান।
সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দেখা যায়, হাসপাতালের সব কটি শয্যা রোগীতে পরিপূর্ণ। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের ভেতরে মেঝেতে বিছানা পেতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ডের বাহিরে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতেও দীর্ঘ সারিতে রোগীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
শয্যা, ফোম ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এর ফলে ওষুধ ও জনবল সংকটের পাশাপাশি সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে প্রায় সাড়ে তিনশত রোগী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। একই সময়ে জরুরি বিভাগে নতুন করে ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ডায়রিয়া এবং একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু রয়েছে।
এছাড়া প্যাথলজি বিভাগে সিবিসি, আরবিএস, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিলিরুবিন, ডেঙ্গু পরীক্ষা, এসজিপিটি, লিপিড প্রোফাইল ও ইউরিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অন্তত ৪০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।
মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেওয়া ডায়রিয়া রোগী আমেনা বেগম, আফিয়া আক্তার এবং জ্বরে আক্রান্ত মো. আলাউদ্দিন জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুরোনো কিছু ফোম দিয়ে কষ্ট কমানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রচণ্ড গরমে নোংরা মেঝে ও ভাঙা ফোমে শুয়ে থাকা খুবই কষ্টকর। চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিক হলেও শয্যার অভাবে তাদের দুর্ভোগ কমছে না।”
ডায়রিয়া রোগী জান্নাত বেগম বলেন, বেড না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও দুইজন রোগীকে একটি বেডে রাখা হয়েছে। এতে সুস্থ হওয়ার পরিবর্তে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশু নাইমের বাবা এবং হামে আক্রান্ত জহিরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে পা ফেলার জায়গা নেই। চারদিকে শুধু রোগী আর রোগী। রোগীর তুলনায় নার্স ও চিকিৎসক কম হওয়ায় প্রয়োজনের সময় সেবা পেতে বিলম্ব হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রহিমা বেগম জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৪০ জন রোগী ভর্তি আছেন, যার মধ্যে ২৬ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ডায়রিয়া রোগীদের জন্য সরকারি বরাদ্দের আওতায় কলেরা স্যালাইন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ইনজেকশন, জিংক সিরাপ, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট ও মেট্রোনিডাজল ইনজেকশন সরবরাহ রয়েছে।
তবে রোগীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি হওয়ায় সব রোগীকে প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “মৌসুমি পরিবর্তন ও অতিরিক্ত গরমের কারণে ডেঙ্গু, হাম ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। আমাদের হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা মাত্র ৫০টি হলেও কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রয়োজন হলে মেঝেতে শুইয়েও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। সীমিত জনবল ও ওষুধ নিয়ে চিকিৎসক-নার্সরা দিনরাত কাজ করছেন”।
তিনি আরও বলেন, “সরকারি ওষুধের বরাদ্দ ৫০ শয্যার হিসাব অনুযায়ী হলেও বর্তমানে আমরা ১৪০ জনের বেশি রোগীকে সেবা দিচ্ছি। শয্যা ও ওষুধ সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমাধান হলে রোগীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছি”।