বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
ডাকাতদের হামলার শিকার হওয়া কার্গো জাহাজ এমডি আব্দুল হাকিম-১। প্রবা ফটো
সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ-ভারত নৌপথে ভারতগামী পাঁচটি জাহাজে ডাকাতির চেষ্টা করেছে বনদস্যুরা। এর মধ্যে চারটি জাহাজ নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছাতে পারলেও এমভি আব্দুল হাকিম-১ নামের একটি কার্গো জাহাজে বনদস্যুরা গুলি ও লুটপাট করেছে।
জাহাজগুলো সুন্দরবনের শিবসা নদী পার হয়ে শিংয়েরনালা নামক স্থানে পৌঁছালে শনিবার (৬ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি কিন্তু কোনো অভিযোগ পাইনি এখনও। খুলনার দাকোপ ও কয়রা থানাও এমন কোনো তথ্য জানা নেই বলে দাবি করেছেন এই কর্মকর্তা। এদিকে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভারত-বাংলাদেশ নৌ প্রটোকলের অধীনে ঢাকা থেকে মোংলা বন্দর হয়ে সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া, বজবজা, আড়ুয়া শিবসা, শিবসা নদী দিয়ে ভারতে যায় নৌযানগুলো। ডাকাতির চেষ্টা হওয়া বাকি জাহাজগুলো হলোÑ এমভি আ. হাকিম, এমভি বয়রাতলা, এমভি আরিয়ান ছালাম ও এমভি খারেহেরা।
বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল কমিটির কার্যকরী সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জাহাজগুলো ভারত থেকে ফ্লাইঅ্যাশ আনতে যাচ্ছিল। শিপসা নদীর পাড়ি দিয়ে শিংয়ের নালাখালের ভেতর ঢোকামাত্র ডাকাত দল জাহাজগুলোকে ধাওয়া করে। সামনে থাকা ৪টি জাহাজ এগিয়ে গেলেও সবার পেছনে থাকা এমভি আব্দুল হাকিম-১-এ উঠে স্টাফদের মারধর শুরু করে বনদস্যুরা।
এমভি আব্দুল হাকিম-১ জাহাজের ইনচার্জ মাস্টার মো. নুর নবীর বরাতে সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ট্রলারযোগে আসা ১০-১৫ জন লাইফ জ্যাকেট পরিহিত ডাকাত জাহাজের বাম পাশ থেকে জাহাজের ওপরে উঠে স্টাফদের জিম্মি করে। টের পেয়ে তাৎক্ষণিক মাস্টার ব্রিজের সকল গেট আটকে দেয়। ডাকাতরা মাস্টার কেবিনে ঢুকতে না পেরে গেটের দরজায় ১৫-২০ রাউন্ড শটগানের গুলি করে এবং স্টাফদের মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়।
বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এমন ঘটনা এভাবে চলমান থাকলে বাংলাদেশ-ভারত রুটে জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে না। আমরা সরকারের কাছে আমাদের শ্রমিকদের নিরাপত্তা চাই।