বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নের কুরাংপাড়া ও কুরাংবাজার এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট সৌরবিদ্যুৎচালিত মোটর ব্যবহার করে দূর করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে বাস্তবায়িত সৌরবিদ্যুৎচালিত প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করায় নিয়মিত পানি পাচ্ছেন এলাকাবাসী। ফলে স্বস্তিতে বাসিন্দারা।
কুরাং পাড়া ও কুরাং বাজার এলাকায় শনিবার (৬ জুন) বিকালে সোলার প্যানেলভিত্তিক পানি সরবরাহ করে এলাকার পানি সংকট দুর করা হয়।
স্থানীয় ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, জেলা শহর থেকে ৩৭ কিলোমিটার দুরে টংকাবতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কুরাং পাড়া ও কুরাং বাজারের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছিলেন। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার বিভাগের থোক বরাদ্দ থেকে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সৌরবিদ্যুত চালিত পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় টংকাবতী খালের উজান থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ ফুট নিচু স্থান থেকে সৌর বিদ্যুৎচালিত মোটরের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে কুরাং বাজার ও আশেপাশের এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৫থেকে ২০ হাজার লিটার পানি পাচ্ছেন স্থানীয়রা।
ইউনিয়ন পরিষদ সুত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির সুবিধাভোগীর মধ্যে রয়েছেন কুরাং বাজারের ৭৮টি দোকান এবং ৪০টিরও বেশী পরিবার। এটি টংকাবতী ইউনিয়ন ছাড়াও রুমা উপজেলার গ্যালেংগ্যা ইউনিয়ন, লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের কাপ্রু পাড়া এবং গজালিয়া ইউনিয়নের ডলা পাড়াসহ আশে পাশের এলাকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটি টেকসইভাবে পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে কুরাং পাড়া ও কুরাং বাজার এলাকায় নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে।
কুরাং বাজার কমিটির সভাপতি মেন চা ম্রো বলেন, আগে ঘরের মা-বোনেরা দৈনিন্দন ব্যবহারের পানি সংগ্রহ করতে হতো দেড়হাজার ফুট পাহাড়ের নীচ থেকে, পানি সংগ্রহ করতেই নারীদের দিন চলে যেতো। এখন সেই দীর্ঘদিনের পানি সংকট দুর হয়েছে। ফলে বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাংয়াং ম্রো প্রদীপ বলেন, কুরাং পাড়া ও কুরাং বাজারের এলাকাবাসী দীর্ঘদিন সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছিলেন, স্থানীয় সরকারের বরাদ্দে সৌরবিদ্যুত চালিত মোটরের মাধ্যমে টঙকাবতী খালের উজান থেকে পানি উত্তোলন করে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকটের সমাধান হয়েছে।