গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তারকৃত বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) বিকালে তাদের রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে দৌলতদিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক আবুজার গিফারী গোয়ালন্দঘাট থানায় মামলা করেন। মামলায় বাসচালক ঝন্টু আলী, সুপারভাইজার আজমল হোসেন এবং হেলপার শাকিব হোসেনকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাস পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফেরির অবকাঠামো ও যাত্রীদের মালামাল মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মেহেরপুরের গাংনী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর চালক ঝন্টু আলী বেপরোয়া ও অবহেলামূলকভাবে বাসটি চালাতে শুরু করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পারাপারের জন্য নির্ধারিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর’ ফেরিতে না উঠে বাসটি দ্রুতগতিতে পন্টুন অতিক্রম করে পাশে অবস্থানরত ‘করবী অক্সফ্যাম’ ফেরিতে উঠে যায়। পরে ফেরিটির শেষ প্রান্তের র্যাম্পে সজোরে ধাক্কা দিলে র্যাম্পের শিকল ও ছিটকিনি ছিঁড়ে গিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
নৌপুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি নদীতে পড়ার আগমুহূর্তে সুপারভাইজার ও হেলপার লাফিয়ে ফেরিতে নেমে যান। অন্যদিকে চালক নদী থেকে সাঁতরে পন্টুনের কাছে এলে নৌপুলিশ ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার সহায়তায় ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করা হয়। পরে বাসটি জব্দ করে নৌপুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
রাজবাড়ী কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. মোমিনুল ইসলাম বলেন, বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।