জমি নিয়ে চাচা-ভাতিজার দ্বন্দ্ব
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার দেহুন্দা ইউনিয়নের ভাটিয়া মীরপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলাকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক বলে অভিযোগ করেছেন মামলার আসামি পক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, সম্প্রতি ভাটিয়া মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নজরুল ইসলাম কান্তু কিশোরগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর এবং নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়। তবে আসামিপক্ষ ও স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ সাজানো এবং বাস্তবতার সঙ্গে অসঙ্গত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম কান্তুর সঙ্গে তার ভাতিজা মোহাম্মদ বিলাল হোসেনের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, থানা পুলিশ এবং মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে জমি জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় যুবক নাদিমের ভাষ্য, জমি বিরোধের জেরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেয়। পরে থানা ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসে একাধিক সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে একজন আমিনের মাধ্যমে জমি পরিমাপ করে বৈধ মালিকানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিদেরও মামলায় জড়ানো হয়েছে।
সংঘর্ষে আহত প্রতিবন্ধী তরুণী খুকু মনি অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছিল। প্রতিবেশীরা এসে তাদের রক্ষা করেন। কিন্তু যারা সহায়তা করেছিলেন, তাদের অনেককেই পরবর্তীতে মামলার আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি জমি বিরোধের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। তারপরও অতীতে একটি চাঁদাবাজি মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা জুলহাস মিয়া বলেন, বাদীর সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নেই। তারপরও বিভিন্ন সময়ে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বাদীর ভাতিজা বিলাল হোসেন বলেন, তার বাবার মৃত্যুর পর থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে বহুবার সালিশ হয়েছে। বিভিন্ন সালিশে জমির দাবির পক্ষে গ্রহণযোগ্য কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী নজরুল ইসলাম কান্তু বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে সালিশ ও দরবার হয়েছে। একাধিক সালিশের পর থানায় অনুষ্ঠিত বৈঠকেও তার জমির দাবির পক্ষে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়। তবে প্রতিপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।
এ বিষয়ে দেহুন্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, এটি চাচা-ভাতিজাদের দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ। কান্তু, হানিফ ও বিলালের মধ্যে এ নিয়ে অনেকদিন ধরে বিরোধ চলছে।
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. এমরানুল কবির বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।