খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানার দারুল আমান মহল্লায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় শাশুড়ি ও দুই শিশুকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম হাওলাদার। নিহত দুই শিশুর সৎ বাবা রফিকুলের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ ও নির্মম বর্ণনা।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে খুলনা মহানগর হাকিম (মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট) আদালতের বিচারক মো. ফরিদুজ্জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে বরিশাল জেলার কাশিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলাম হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬ খুলনার একটি দল।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ মন্ডল জানান, ঈদের দিন রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে মেরী বেগমের মা বেবী বেগম রাগ করে রফিকুলকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রফিকুল আবার ওই বাড়িতে ফিরে আসেন। সে সময় বাড়ির মূল ফটক ও ঘরের দরজা খোলা ছিল। ঘরে ঢোকার সময় শাশুড়ি বেবী বেগম তাকে দেখে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে রফিকুল তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভেতরে ফেলে দেন এবং নিজের গায়ে থাকা ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ঘটনাটি দেখে ফেলে শিশু শামীম। পরে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। শামীমের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠে ছোট শিশু মুস্তাকিম। হত্যার ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও ট্রাংকের ওপর থাকা একটি পায়জামা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
জবানবন্দিতে আরও জানা যায়, হত্যার পর বেবী বেগমের মরদেহ খাটের নিচে, শামীমের মরদেহ ট্রাংকের ওপর এবং মুস্তাকিমের মরদেহ একটি ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর ঘরে তালা দিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরও দুপুরে একই বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া করেন রফিকুল। তবে কিছুক্ষণ পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে স্থানীয়রা তালা কাটার উদ্যোগ নেন। এ সময় সুযোগ বুঝে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।