ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩২ মিনিট আগে
ভৈরব রেলওয়ে থানা।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনে সংঘর্ষে আহত দুই ওসিসহ একাধিক পুলিশ সদস্য ও থানা ভাঙচুরের ঘটনায় দেড় শতাধিককে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে রেলওয়ে থানার এসআই বিএম আফজাল হোসেন বাদী
হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়রা জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব পৌর শহরের
পঞ্চবটির যুবকদের সঙ্গে জগন্নাথপুরের যুবকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে ৪ জুন বিকেলে
ভৈরব স্টেশন এলাকায় জগন্নাথপুরের লিয়ামকে মারধর করে পঞ্চবটি এলাকার লোকজন। পরে মারধরের
ঘটনায় জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি এলাকার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় উভয়পক্ষের শতাধিক
লোক দেশীয় অস্ত্রসহ ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে দুই পক্ষই রেলস্টেশনে ধাওয়া-পাল্টা
ধাওয়ায় রেললাইনের পাথর নিক্ষেপ করে।
রেলওয়ে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে
ভৈরব থানা পুলিশ ও শহর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা
চালায়। তারাও ব্যর্থ হলে ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের সদস্যরা ও ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের
সদস্যরাসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)
এএইচএম আজিমুল হক ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
আনেন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ জানান, ৪ জুন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষকারীরা
রেলওয়ের স্টেশন এলাকা দখল করে তাণ্ডব চালিয়ে রেলওয়ে স্টেশন ও রেলওয়ে থানার ব্যাপক ক্ষতি
করে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা স্টেশন প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন
দোকানে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট করে সাধারণ
জনগণ ও যাত্রী সাধারণের মনে চরম আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে। সমগ্র স্টেশন এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর
ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দেড় শতাধিক লোককে আসামি করে মামলা দায়ের
করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভৈরব স্টেশন মাস্টার ইউসুফ মিয়া বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় স্টেশন ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে
ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে নির্দেশনা না থাকায় এ বিষয়ে আইনগত
ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।