রাজু আহমেদ, রাজশাহী
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
দৃষ্টিনন্দন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) এলাকার প্রতিটি সড়ক এখন রাজনীতিবিদদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এদিকে দলখলারদের দৌরাত্ম্যে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দিয়ে চলাচল অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এতে করে পরিচ্ছন্ন নগরী রাজশাহী তার জৌলুস হারাচ্ছে বলে মনে করেন নগরবাসী।
এ নিয়ে রাসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের দাবি, বর্তমান প্রশাসক এ বিষয়ে নির্দেশনা দিলেই তারা ব্যানার ও পোস্টার অপসারণে কাজ করবেন।
সরেজমিন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি সড়কের ডিভাইডার থেকে শুরু করে ফুটপাত সংলগ্ন দৃষ্টিনন্দন সড়কবাতির পোলের সঙ্গে ঝুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের ঈদ শুভেচ্ছা থেকে শুরু করে দলীয় কর্মসূচির ব্যানার ও পোস্টার।
কোথাও বা সড়কে গর্ত করে বাঁশ পুঁতে তাতে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। এদিকে ব্যানার ও পোস্টার লাগানো নিয়ে নগরীর কিছু এলাকায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের সঙ্গে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াতে দেখা গেছে।
এ ছাড়াও নগরীর বিনোদপুর বাজার, তালাইমারি, আলুপট্টি, সাহেববাজার, মনিচত্বর, লক্ষ্মীপুর, কোর্ট এলাকা, ভদ্রা ও শিরোইল বার্স টার্মিনালসহ জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসার পসরা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এতে করে হেঁটে বা যানবাহন নিয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
নগরীর ভদ্রা পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা কাউসার বলেন, বহু আগেই হাঁটার ফুটপাত ও সড়ক দখল হয়ে গেছে। এখন মাথার ওপরের পোলগুলোও দখল হয়ে গেছে। রাসিক দাবি করে এই নগরী নাকি পরিচ্ছন্ন ও ক্লিন সিটি। এটাই কি তার নমুনা! এসব নিয়ে রাসিকের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজগর আলী বলেন, দৃষ্টিনন্দন সড়কের বিদ্যুতের পোলে এভাবে রাজনৈতিক ব্যানার দিনের পর দিন ঝুলে থাকলে এতে করে নগরীর সৌন্দর্য যেমন হ্রাস পায়, তেমনিভাবে ঝুঁকি বাড়ে। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগারও ঝুঁকি রয়েছে। তালাইমারী এলাকার ওসমান করিম বলেন, রাসিকের উচিত এগুলো রাজনৈতিক কর্মসূচির পর সরিয়ে ফেলা। আগে এভাবেই কাজ করত রাসিক। তবে এখনকার চিত্র ভিন্ন। রাজশাহী নগরী দেখে মনে হয় এই নগরীর কোনো অভিভাবক নেই। তেরোখাদিয়া এলাকার বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি কেউই বাদ নেই। সবাই স্বেচ্ছাচারী আচরণ করছে। অন্তত এই নগরীর সৌন্দর্য ধরে রাখতে কারও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েছে না। অথচ তারা বোঝে না নাগরিকরা এসব ব্যানার-পোস্টারের রাজনীতি পছন্দ করে না।
রাসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, এগুলো রাজনৈতিক পোস্টার। এ বিষয়ে রাসিকের প্রশাসক নির্দেশনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিনের বাংলাদেশর প্রতিবেদক রাসিকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পর গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন স্থানে ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, সাইনবোর্ড ও প্রচারপত্র ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে, যা দেয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২-এর পরিপন্থী।
এ ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও ফুটপাতে অবৈধভাবে দোকান ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করায় জনসাধারণের রাস্তায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে ও সড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন ড্রেনের ওপরে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা, দোকান, দোকানের মালামাল ও নির্মাণসামগ্রী ইত্যাদি থাকায় নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার ও মশক নিধন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এমতাবস্থায় একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুমতিবিহীন সব ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, সাইনবোর্ড ও প্রচারপত্র এবং বিভিন্ন সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেনের ওপরে অবৈধভাবে নির্মিত দোকান ও স্থাপনা আগামী ৭ দিনের মধ্যে স্ব-স্ব উদ্যোগে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানকে অনুরোধ করা হলো। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।