টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার গুলিপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও হামলা ও ভাঙচু ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নলীন বাজার ও জগৎকুড়া এলাকায় নতুন করে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুইপক্ষের সংঘর্ষে জগৎকুড়া গ্রামের কালাম তালুকদার (৬৫) নিহত হন।
এ ঘটনায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওইদিন রাত ১২টার পর স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার সকালে ২য় দফায় মাইকিং করে সহিংসতার ডাক দেয় সংঘর্ষে জড়িতরা।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, কয়েক মাস আগে দোকানে বাকিতে পণ্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকালে আবারও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয়পক্ষ। সংঘর্ষে জগৎপুরা গ্রামের কালাম তালুকদার নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় অন্তত ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একজনের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু গতকাল সকালে সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আবারও অন্তত পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত শান্তি ফিরানো না গেলে ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হবে। আশেপাশের কয়েকটি এলাকায় এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন তারা। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে।
টাঙ্গাইল পুলিশ সুপার মো. সামসুল আলম সরকার জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগ পর্যন্ত সেখানে ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোপালপুরের নলীন বাজার, গুলিপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, আমরা দুই উপজেলার লোকজনকে শান্ত রাখার চেষ্টা করছি।
ভূঞাপুর থানার ওসি গোলাম মোক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, সংঘাত নিরসনে এলাকার রাজনৈতিক নেতা ও দুই গ্রামের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাইলাতুল হোসেন বলেন, সংঘাত নিরসনে চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকবে।