× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ভৈরবে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ১২ পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

মধ্যাঞ্চলীয় অফিস ও ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১০ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ১০ ঘণ্টা আগে

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ‍পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। 

কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে দুই থানার অফিসার ইনচার্জসহ (ওসি) ১২ জন পুলিশ সদস্য, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের কারণে ভৈরব রেলওয়ে জংশন এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এ সময় স্টেশন মাস্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। 

ঘন্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল

পরিস্থিতির অবনতির কারণে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রেলপথে ট্রেন চলাচল।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় এই সংঘর্ষ চলতে থাকে।

পরে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ এবং প্রশাসনের সমন্বিত অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাত দেড়টার পর মেঘনা সেতুর কাছে আটকে থাকা ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ছেড়ে গেলে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

পুরোনো বিরোধ থেকে সংঘর্ষ

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে পৌর শহরের পঞ্চবটি এলাকার যুবকদের সঙ্গে জগন্নাথপুর এলাকার যুবকদের একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। 

সেই বিরোধের জের ধরে বুধবার বিকেলে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তারা বলেন, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই এলাকার লোকজন দ্রুত জড়ো হয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

এ বিষয়ে কথা হয়ে বেশ কয়েজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে।

তারা জানান, একপর্যায়ে উভয় পক্ষের শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল এবং রেললাইনের পাথর নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে রেলস্টেশন এলাকা ও আশপাশের সড়কে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

পরে উত্তেজিত লোকজন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করে স্টেশন মাস্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন অফিসে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

তারা বলেন, সংঘর্ষকারীরা রেললাইনের পাথর তুলে একে অপরের দিকে ছুড়তে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে স্টেশনে অবস্থানরত যাত্রীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় রেলওয়ে থানা পুলিশ

প্রথমে রেলওয়ে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ব্যাপক পাথর নিক্ষেপের মুখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। পরে ভৈরব থানা পুলিশ, শহর ফাঁড়ির সদস্য, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এসে ওই সময় সংঘর্ষকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও পাথরে আহত হন ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ, ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ, এসআই ইমদাদুল কবীর, এসআই সাইফুল, এসআই জহুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, সুলতান মাহমুদ, মিন্টু মিয়া, মাহমুদুল হাসান ও দাউদ নবী।

এর পাশাপাশি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মুছাসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা

সংঘর্ষের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল। 

এতে ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেসের দুটি ট্রেন, পারাবত এক্সপ্রেস, এগারসিন্ধুর প্রভাতী, তিতাস কমিউটার এবং কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ অন্তত ছয়টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে।

হাজারো যাত্রী দীর্ঘ সময় ট্রেন ও স্টেশনে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগে পড়েন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন।

মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শত শত নিরীহ যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

অন্যদিকে আল আমিন জানান, তিনি নিজের চোখে দুই পক্ষকে ইট-পাটকেল ও রেললাইনের পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছেন।

কিশোরগঞ্জগামী যাত্রী নাজমা আক্তার বলেন, দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জরুরি কাজে ঢাকায় যেতে না পেরে তিনি মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। 

ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান ও চিকিৎসার জন্য ঢাকাগামী বয়স্ক যাত্রী আবদুল মালেকও দীর্ঘ সময় স্টেশনে আটকে থেকে ভোগান্তির শিকার হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ কে এম মামুনুর রশীদ এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

তাদের নেতৃত্বে র‍্যাব, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে অভিযান চালান। প্রায় ছয় ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত ১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং পরে ট্রেন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা

এদিকে সংঘর্ষের কারণে মহানগর গোধূলী ট্রেনে আটকে পড়া সাতজন বিদেশগামী যাত্রীকে স্থানীয় ছাত্র ও যুব সমাজের সহযোগিতায় বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতিনিধি মোবারক হোসেন জানান, সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পারলে তাদের বিদেশযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বিদেশগামী যাত্রী আমিনুল ইসলাম এ সহযোগিতার জন্য স্থানীয় তরুণদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার বলেন, ফুটবল খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে এবং স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। রাত ১টা ১০ মিনিটে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী ঘোষণা দিলে রাত দেড়টার দিকে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি সাঈদ আহমেদ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের শনাক্ত করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন, এমনকি একজন পুলিশ সদস্যের পা ভেঙে গেছে।

ইউএনও এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারা সংঘর্ষের সূত্রপাত করেছে এবং কারা এতে জড়িত ছিল, তা শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা