প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে
প্রতীকী ছবি
কুমিল্লার পুলিশ সুপার প্রত্যাহার সংক্রান্ত পুলিশ সদর দপ্তরের একটি ভুয়া আদেশ তৈরি করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ৩১ মে ‘প্রতিবাদী জনতা’ নামের একটি ফেইসবুক পেইজ থেকে পুলিশ সুপার প্রত্যাহারের একটি ভুয়া আদেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো হয়। পরদিন গত ১ জুন ও ফেইসবুক পেইজে ‘১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের প্রভাবে কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের প্রত্যাহার আদেশ বাতিল’ সংক্রান্ত আরেকটি গুজব ছড়ানো হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গুজবের বিষয়টি নজরে আসার পর অপরাধীদের গ্রেপ্তারে মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও আধুনিক কৌশলের সহায়তায় গুজব সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করা হয়। পরে বুধবার বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোনিয়া আক্তার নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোনিয়া আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি তাৎক্ষণিক কুমিল্লা মহানগরীর শ্রীমন্তপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন পারভেজ নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তাদের কাছ থেকে জব্দকরা বিভিন্ন ডিভাইস পর্যালোচনা করে গুজব ছড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, আরও কয়েকজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়িয়ে আসছিল। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে সব অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী এবং রাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাধারণ মানুষের সামনে হেয় প্রতিপন্ন করা, পুলিশের মনোবল ভেঙে দেওয়া এবং দেশজুড়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যেই তারা সুপরিকল্পিতভাবে এই ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে আসছিল। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।