খুলনা অফিস
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
খুলনা নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়ায় একটি বিরল প্রাণী উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নারকেল গাছ থেকে পড়ে আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া প্রাণীটিকে নিয়ে দেখা দিয়েছে মতভেদ। স্থানীয়দের কেউ একে বিদেশি বিরল প্রাণী সুগার গ্লাইডার বলছেন, আবার বন বিভাগ দাবি করছে এটি আসলে গন্ধগোকুল।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে দক্ষিণ টুটপাড়ার ২ নম্বর ক্রস রোড এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় ফটো সাংবাদিক এম এম মিন্টুর বাড়ির পাশের একটি উঁচু নারকেল গাছ থেকে ছোট আকৃতির প্রাণীটি নিচে পড়ে যায়। অস্বাভাবিক গড়ন ও চেহারার কারণে প্রথমে স্থানীয়রা এটিকে চিনতে পারেননি। কেউ কেউ এটিকে বিরল প্রজাতির কাঠবিড়ালি বলেও ধারণা করেন।
আহত অবস্থায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন মিন্টুর স্ত্রী লাভলী বেগম। তিনি প্রাণীটিকে ঘরে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা করেন। খাবার ও পানি দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রাণীটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। লাভলী বেগম বলেন, প্রথমে প্রানীটিকে দেখে মায়া লেগে যায়। পরে দেখি প্রাণীটা আহত। তাই বাসায় এনে যত্ন নিয়েছি। এখন আগের চেয়ে ভালো আছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। উৎসুক মানুষ প্রাণীটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। এরপরই শুরু হয় প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে আলোচনা।
বিএল কলেজ প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মোস্তফা আলী বলেন, এটি সুগার গ্লাইডার হতে পারে। কারণ প্রাণীটির শরীর ছোট, চোখ বড় এবং পিঠ বরাবর কালো দাগ রয়েছে। এছাড়া শরীরের পাশে পাতলা চামড়ার পর্দার মতো অংশও দেখা গেছে, যা সুগার গ্লাইডারের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়।
উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, সুগার গ্লাইডার মূলত অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাপুয়া নিউ গিনির বনাঞ্চলে বসবাসকারী এক ধরনের নিশাচর মারসুপিয়াল প্রাণী। বৈজ্ঞানিক নাম Petaurus breviceps। প্রাণীটি উড়ন্ত কাঠবিড়ালির মতো দেখতে হলেও এটি কাঠবিড়ালি নয়। শরীরের দুই পাশে থাকা পাতলা চামড়ার পর্দা ব্যবহার করে এক গাছ থেকে অন্য গাছে ভেসে যেতে পারে।
সুগার গ্লাইডারের বড় কালো চোখ রাতের অন্ধকারে চলাফেরায় সহায়তা করে। এরা সাধারণত ফলের রস, ফুলের মধু, গাছের কষ ও পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকে। মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আগ্রহের কারণেই নামের সঙ্গে সুগার শব্দটি যুক্ত হয়েছে।
তবে বন বিভাগের বক্তব্য ভিন্ন। খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, প্রাণীটি সুগার গ্লাইডার নয়, এটি গন্ধগোকুল। তিনি বলেন, সেটিকে আমারা বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বয়রাস্থ বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং নিরাপদ পরিবেশে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।