সাংবাদিকদের রিপোর্ট তলব
বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো সংশোধিত চিঠিতেও (দ্বিতীয় চিঠি) অস্বস্তি কমেনি। তাদের মতে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি আরও সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন, যাতে সাংবাদিকদের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা অস্বস্তির সৃষ্টি না হয়।
একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সাংবাদিক নেতারা বলছেন, সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি হচ্ছেÑ স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও প্রকাশ। প্রশাসনের সঙ্গে তথ্য বিনিময় বা মতবিনিময় স্বাভাবিক হলেও কোনো ধরনের নিয়মিত রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা উচিত নয়, যাতে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা প্রথম চিঠিতে জেলার সার্বিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যা, অনিয়ম ও অসঙ্গতি চিহ্নিত করে জেলা প্রশাসকের কাছে উপস্থাপনের জন্য জেলার কর্মরত সব গণমাধ্যমকর্মীকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়।
পরে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেক সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতার মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়Ñ জেলা প্রশাসকের কাছে নিয়মিত মাসিক রিপোর্ট প্রদান করা কি সাংবাদিকদের জন্য বাধ্যতামূলক? আর এর কোনো আইনগত ভিত্তি রয়েছে কি না? তাদের মতে, সাংবাদিকরা মূলত তাদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি করেন এবং পেশাগত দায়িত্বও পালন করেন সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের নীতিমালা ও সম্পাদকীয় নির্দেশনা অনুযায়ী। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের রিপোর্ট চাওয়ার উদ্যোগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত স্বায়ত্তশাসনের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম চিঠিতে ভাষাগত ত্রুটি ও ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ থাকায় পরবর্তীতে সংশোধনী আকারে দ্বিতীয় চিঠি জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এটি কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নয়; বরং জেলার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সাংবাদিকদের মতামত গ্রহণের একটি উদ্যোগ মাত্র।