ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে
সিলেটের ওসমানীনগরে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কিছু সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়Ñ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ‘আপা’ সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই জরিমানা করা হয়।
তবে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার উভয়েই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসি মিষ্টি বিক্রির প্রমাণ পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়।
জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকালে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি’র শাখায় বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। অভিযানের সময় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও মেমো পর্যালোচনা করে বাসি মিষ্টি বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জরিমানার অর্থ ইতোমধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে বনফুলের এক কর্মচারী আব্দুল মান্নানের বরাতে দাবি করা হয়, তিনি ইউএনওকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘আপা’ বলে সম্বোধনের কারণে নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ার কারণেই জরিমানা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়লে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা। তিনি বলেন, ‘আপা’ সম্বোধন কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। মোবাইল কোর্টে কাউকে ‘আপা’ বলার কারণে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের আরও যাচাই-বাছাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে বাসি মিষ্টি পাওয়া গেছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন।