সিলেটের ওসমানীনগর
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে
বাসি মিষ্টি বিক্রির অপরাধে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখাকে জরিমানা করেন ওসমানীনগরের ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সিলেটের ওসমানীনগরে আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির অপরাধে বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখাকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের শাখা ম্যানেজারও।
উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত বনফুলের শোরুমে গত শুক্রবার বিকালে অভিযান পরিচালনা করেন ইউএনও ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা।
অভিযানকালে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ক্যাশ মেমো পর্যালোচনা করে বাসি মিষ্টি বিক্রির অকাট্য প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। শোরুমের এক কর্মচারী স্বীকার করেন, মিষ্টিগুলো অনেক আগের এবং পুরাতন মিষ্টির সাথে নতুন মিষ্টি মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল। অপরাধ স্বীকার করার পরপরই ওই কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে অপরাধ সংঘটিত ও উদঘাটিত হওয়ায় এবং কর্মচারী পালিয়ে যাওয়ায় প্রশাসন থেকে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বনফুলের ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া ওই কর্মচারীকে খুঁজে এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করেন। পরবর্তীতে পলায়নের অভিযোগসহ সামগ্রিক অপরাধের দায়ে প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ পরদিনই সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যমে “ইউএনওকে আপা ডাকায় জরিমানা” শিরোনামে খবর প্রকাশ হলে তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বনফুলের তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি রাখার দায়েই আমাদের জরিমানা করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা বলেন,বাসি মিষ্টি বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে এই জরিমানা করা হয়েছে। কোম্পানি তার কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে, তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়, মোবাইল কোর্টের নয়। কিন্তু হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকার তথা মোবাইল কোর্টকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কেউ কেউ এমন মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছেন।